জীবনজয়ী হওয়াই শ্রেষ্ঠত্বের কাজ

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

জোনাকি


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, পৃথিবীর সকল মানবজাতীর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতার দিন। ১৯৯২ সালে প্রথমবার পালন করা হয়েছিল। কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসেবে পালন করা হয়!
আমার এই ছোট্ট শিক্ষাজীবনে যেটুকু শিখেছি তার থেকে এটুকু স্পষ্ট যে, “HEALTH IS WEALTH “- স্বাস্থ্যই সম্পদ! শারীরিকভাবে যেমন প্রত্যেকটি মানুষের সুস্থতা দরকার তেমনি মানসিক সুস্থ থাকার গুরুত্ব অপরিসীম। শরীর ভালো না থাকলে অনেক সময় নানা কারণেই মেজাজ ভালো থাকে না। তেমনি মানসিক অবসাদে মানুষ ক্লান্ত হয়। মানসিক অসুস্থতা অনেক রকমের- মৃত্যুভীতি, মাদকাসক্তি, ব্যর্থতা, অবসাদ, গুনাহ ভীতি, হিস্টিরিয়া, হতাশা, মানসিক দ্বন্দ্ব, অট্টহাসি, স্মৃতিভ্রংশ, চৌর্য প্রবণতা, আত্মহত্যা প্রবণতা ইত্যাদি এসকল হীনমন্যতার কারণে সৃষ্টি হয়। মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ তখনই হয়- যখন মানসিক চাপ, মানসিক অশান্তি, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া
ইত্যাদি বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করে। কিছু কিছুা চিন্তাশীল মানুষের বিরামহীন চিন্তা যা পরবর্তিতে মানসিক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই মানসিক অবস্থার কারণে বর্তমান তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষ অপরাধমূলক কাজ করে বসে- যা আত্মহত্যার সামিল।
বিষন্নতা, অবসাদ, মাদকে আসক্তি, চরম হতাশা, যার শেষ পরিণাম মৃত্যু হয়ে দাঁড়ায়। এই যে নিজেকে হত্যার প্রবণতা একটা সময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ এনে দেয় যাতে সে কাজটা করতে বাধ্য হয়। এই মানসিক অসুস্থতা হতে অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকার মোটিভেশন স্বরূপ আমার লিখা কিছু কথা।
নিজেকে চিনতে শিখো, তুমি কারো নও, তুমি তোমার নিজের, তুমি তোমার অন্তরের, গভীরের, অধিকারের, উদ্দেশ্যের, স্বার্থের সব কিছু তোমার নিজেরই। তোমার খাবার, তোমার পাকস্থলির। তোমার অসুখ, তোমার শরীরের। তোমার বস্ত্র, তোমার দেহেই অবস্থান করছে। তুমি নিজেই প্রশ্বাস নাও, নিজেই নিশ্বাস ছাড়ো।
পৃথিবী তুমি তোমার নজরে দেখো। তোমার ইচ্ছেতেই তুমি চল, মনের সাথে আলাপ করে আবার তোমার ইচ্ছেতেই ভেঙ্গে পড়ো। তোমার অপকর্ম তোমার আবার বিচারও হবে। জন্মসূত্রে তুমি একাই জন্ম হওনি অবশ্যই তোমায় জন্ম দেয়া হয়েছে, লালন করা হয়েছে আর তোমাকে জ্ঞানসম্পন্ন করার পরই সব কিছু তোমার হয়ে গেছে। তোমার সবকিছুই তোমার নামে পরিচিত হল- এখন তুমি তোমার নিজের জন্য ভাবো সাথে পরিবার ও সমাজ নিয়ে। নিজের প্রতি মায়া ছাড়া যাবে না, নিজ প্রীতি দিয়ে ভালোবাসতে হবে, নিজের সকল ভালো কাজকে শ্রদ্ধা করতে হবে। কারণ তুমি প্রথমত নিজের জন্যই পৃথিবীতে এসেছো আর জন্ম জন্মান্তর থেকে যে নিজেকে লালন করেছ তা এতো সহজেই শেষ করে ফেলবে? নিজেকে সুখি করতে হবে, নিজের নেতিবাচক অভ্যাসকে দূরে ঠেলে দিয়ে আনন্দ আর তৃপ্তি পাওয়ার অভ্যাসটাই গড়ে তোল। জেনে শুনে তোমার খারাপ তুমি নিজেই ডেকে এনোনা- এতে তুমি নিজের কাছে নিজেই লজ্জিত হবে। এতে বরং তৃপ্তি থাকবে না তবে সারাজীবনের হতাশা আর কষ্ট রয়ে যাবে। জীবনের উপলব্ধি তোমার অপূর্ণ হয়ে যাবে সাথে জন্মের স্বার্থকতাও। এই সকল নিজেকে হত্যার মানসিক চিন্তার ব্যাপারটা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে কারণ, এটি কোনো সমস্যার সমাধান নয়। জীবনের শেষ পর্যন্ত লড়াই করে জীবনজয়ী হওয়াও শ্রেষ্ঠত্বের কাজ। জীবনে কষ্টের সময় সবসময় থাকে না, আমাদের সকলেরই জানা কথা অন্ধকারের পরেই আলোর আভাস পাওয়া যায়। সর্বোপরি লেখাপড়া, সৃজনশীলতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধার্মিকতা এসকল দিক দিয়ে নিজের ভেতরের জগৎ তৈরি করতে হবে- তাহলে আপনা ভালো থাকা যায়।

আসুন সকলেমিলে ভালো থাকি,
মানসিকভাবে সুস্থ থাকি,
সুস্থ, সমাজ দেশ ও জাতি গড়ি।
লেখক : শিক্ষার্থী, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়