জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যেতে জীবনের ঝুঁকি নিযে বাসে উঠছেন এক নারী। ছবিটি গতকাল সখালে নগরীর বাস টার্মিনাল থেকে তোলা -সোনার দেশ

ঈদের ছুটি শেষ, এখন কর্মস্থলে ফেরার পালা। টিকিট সঙ্কট চলছে বাস ও ট্রেনের। যারা ঈদের আগে ও পরে অগ্রিম টিকিটি কিনেছেন, তারা শুধু ভালোভাবে নিরাপদে যাত্রা করতে পারছেন। আর যারা টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। তাই অনেকটাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে করে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা।
গতকাল শনিবার সকালে নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড় টার্মিনাল জুড়ে। তাদের চোখে-মুখের একটাই ভাষা যে ভাবেই হোক কর্মস্থলে ফিরতে হবে। কারণ ঈদের ছুটির চেয়ে এক বা দুইদিন বেশি ছুটি কাটিয়েছেন অনেকেই। সেই ছুটিও শেষ। তাই জীবিকার তাগিদে বাসের ছাদেই ছুটতে হচ্ছে নিজ নিজ কর্মস্থলে। এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যাত্রীরা বাসের কাউন্টারগুলেতে ঘুরে টিকিটের দেখা না পেয়ে অনেকটাই বাধ্য হয়ে বাসের ছাদে উঠছেন।
নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী আকবর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হলেও কয়েক দিন বেশি করে ছুটি নিয়ে ছিলাম। অনেক দিন আসা হয় না রাজশাহীতে। অনেক অনন্দ করেছি, কিন্তু এবার কর্মস্থলে ফিরতে হবে। পরিবারের তিন সদস্য আছি, আর টিকিট আছে দুইটা। ভাবছি কী করবো ? কষ্ট হলেও যেতে হবে রোববার থেকে অফিসে যোগদান করতে হবে।
এদিকে বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের বলা হচ্ছে, আগামি ৩ তারিখ পর্যন্ত এসি কিংবা নন এসি কোনো টিকিট নেই। তাই বাধ্য হয়ে সাধারণ যাত্রীরা ছুটছেন লোকাল বাসে। শুধু বাসেই নয়, অনেকটাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে যাত্রা করছেন তারা।
আর সেই সুযোগে লোকাল বাসগুলোর মালিকরা টিকিটের মূল্য অতিরিক্ত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। যাত্রীরা বলছেন, আগে যেখানে ছাদে একজন লোকের থেকে নেয়া হতো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এখন সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। আর বাসের ভিতরের টিকিটের জন্য আদায় করা হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো সময় যাত্রীদের থেকে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
তবে নাম প্রকাশে অপরাগতা জানিয়ে এক বাসের শ্রমিক বলেন, ভাড়া তেমন বেশি নেয়া হচ্ছে না। ছাদের ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। আর ভিতরে সিটে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
রাজশাহীতে ঈদ করতে এসেছিলেন কাঁকনহাট পৌরসভার জনি ইসলাম। তিনি বলেন, তিনি ঢাকায় এক প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। আজ রোববার তার যোগদান। না যেতে পারলে অনেক সমস্যা হবে, কারণ নতুন চাকরি। তার উপরে ছুটির চেয়ে একদিন বেশি কাটিয়েছি। টিকিট জানি পাবো না, বাসের ছাদে হলেও যেতে হবে ঢাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকার উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, একতা পরিবহন, হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহনসহ ঢাকাগামী সব বাসেরই ৩ তারিখ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে।
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের ম্যানেজার সাইদুর রহমান বলেন, ঈদের আগ থেকেই টিকিট কিনতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। অনলাইন এবং ফোনের মাধ্যমে যাত্রীরা বুকিং দিয়ে দেয়ায় সবকটি গাড়ির আসন বুকড হয়ে গেছে। যার ফলে নতুন কোনো টিকিট দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকা, চট্টগ্রামগামী এসি, নন এসি কোচগুলোতেও নেই কোনো আসন। আগামি ৩ জুলাই সোমবার পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট দেয়া আছে।
শুধু বাসেই নয়, টিকিট নেই ট্রেনেও। নির্ধারিত দিনে কর্মস্থলে ফেরার কথা থাকলেও অনেকে টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তবে যারা অগ্রিম ট্রেনের টিকিট কেটেছেন তারা অনেকটাই স্বস্তিতে যাত্রা করছেন।
রাজশাহী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মো. জাহিদ হাসান বলেন, স্টেশনে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সব সময় অবস্থান করছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার কোন সদস্য হচ্ছে না টিকিট বিক্রিতে। এবার টিকিট খুব স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি বলেন।