জীবিকার উৎস এখন খালের পানি

আপডেট: June 2, 2020, 9:47 pm

ধামইরহাট প্রতিনিধি:


প্রায় ২০ বছর পর পুনঃখননকৃত খালের পানিই এখন অসহায় কৃষকের জীবিকার উৎস হয়েছে। চাষবাদ হচ্ছে রবিশস্যসহ বিভিন্ন ফসল। বাড়তি উপকার হিসেবে যোগ হয়েছে গৃহপালিত প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন।
নওগাঁর ধামইরহাটে টুটিকাটা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আওতায় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে টেকসই ক্ষুদ্রকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়। খননের পরে আশীর্বাদ হিসেবে খালে জমতে শুরু করেছে পানি। খালের ওই পানি দিয়ে কৃষক তার জমিতে পাট চাষ, ঢেঁড়স, করলা, শসাসহ বিভিন্ন সবজি জাতীয় রবিশস্য চাষাবাদ করতে পারেন। জেলেরা বুনো জালে মাছ মেরে সংসারে চাহিদা মেটাতে পারছেন।
খালের পানি দ্বারা উপকৃত গাংরা গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও জাইদুল ইসলাম জানান, তারা খালের জমানো পানি দিয়ে পাট, ঢেঁড়স, করলা, শসা, পুঁইশাক, লালশাক ও খিরা আবাদ করতে পেরেছেন। এতে তাদের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম হয়েছে। এই পানি দিয়ে তারা অনেক সময় তাদের ধান চাষও করতে পারেন। অসময়ে শুকনো মৌসুমে এই খালের পাড়ে পানি দ্বারা মাল্টা, পিয়ারা ও লেবু বাগান করতে সক্ষম হয়েছেন বলে অপর কৃষক আমিনুর রহমান জানান।
এছাড়াও খাল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোজাফফরের ছেলে নুরুজ্জামান বলেন, আমি ২২ টাকা দরে দেশি হাঁসের বাচ্চা কিনেছি। টুটিকাটা খালেই আমার হাঁসগুলোকে লালনপালন করা হচ্ছে। এগুলো আর ২ মাস পর ডিম দিতে শুরু করবে। প্রতিটি হাঁস সাড়ে ৩ শ’ টাকা থেকে ৪শ’ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে।
টুটিকাটা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মোতারব হোসেন জানান, তাদের এই খালের দুই পাড়ে তারা সামাজিক বনায়ন করেছেন, যা প্রকৃতির ভারসাম্য যেমন রক্ষা করছে। তেমনি সদস্যদেরকেও আর্থিকভাবে উপকৃত করবে।
ধামইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী আলী হোসেন বলেন, গ্রাম পর্যায়সহ বিভিন্ন এলাকায় যে সব খাল খনন বা পুনঃখননযোগ্য সে সব খালগুলো খনন করে কৃষির প্রসার বৃদ্ধি, দরিদ্র মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। করোনাকালে এ উপকার তাদের চরমভাবে জীবিকা উন্নয়নের জন্যে সহযোগী হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ