জুতার ছাপের বয়স ২০ কোটি বছর!

আপডেট: মে ৯, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
‘দি ফিশার ক্যানিয়ন ফুটপ্রিন্ট’ নামের রহস্যময় পায়ের ছাপটির প্রথম সন্ধান মেলে ১৯১৭ সালে। অর্থাৎ আজ থেকে ১শ’ বছর আগে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডায় একটি খনিতে কাজ করতেন আলবার্ট ই ন্যাপ। সেই বছরের ১৫ জানুয়ারি তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন অর্থাৎ নেভাডা মাইনিং কোম্পানীকে একটি চিঠি লিখলেন। জানালেন, খনি সংলগ্ন এলাকায় একটি পাহাড়ের নীচে একটি পায়চারির সময় একটি পায়ের ছাপ তার নজরে আসে।
প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝতে পারেন যে ছাপটি নতুন নয়। মাটিতে যেভাবে শক্ত হয়ে পায়ের ছাপটি রয়েছে যা দেখে সহজেই বোঝা যায় সেটি বহু পুরনো। খুব যতœ করে পাথরের বুক কেটে তিনি সেই ছাপটি সংগ্রহ করেন। চাইছিলেন বাড়ি ফিরে ছাপটি পরীক্ষা করবেন।
বাড়িতে নয় বরং বিশেষজ্ঞদের কাছেও অদ্ভূত এই পায়ের ছাপটি নিয়ে যান আলবার্ট। কেননা, বাড়ি ফিরে তিনি পায়ের ছাপটি পরীক্ষা করে দেখেন তাতে একটি প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। ছাপটি পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের মনেও একই প্রশ্ন দেখা দেয়। সেটি হচ্ছে, ছাপটি খালি পায়ের নয়! পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, পায়ের মালিক চামড়ার জুতো পড়তেন।
অবশ্য বিজ্ঞানীদের অবাক হওয়ার আরও কিছুটা বাকি ছিল। ছাপটির বয়স পরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন যে পাথরের উপর ছাপটি রয়েছে সেটির বয়স ২০ কোটি বছরের কম নয়। তাহলে এত আগে মানুষ আসলো কোত্থেকে? আর তাদের পায়ে চামড়ার জুতোই বা কে পরিয়ে দিল?
শুধু কি তাই! ছাপ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তাতে আধুনিক জুতোর মতোই হিল ছিল। রহস্যময় এই পায়ের ছাপটি আবারও আলোচনায় আসে ১৯২২ সালে। জন টি রেইড নেভাডার ফিশার ক্যানিয়ন থেকে পাওয়া ছাপটির কথা সবাইকে জানিয়ে দেন। এবং বিষয়টি সম্পর্কে নেভাডার হিস্টোরিক্যাল সোসাইটিকেও অবহিত করেন।
ফলে রহস্যের জন্ম দেয়া অদ্ভুত পায়ের ছাপটি আসলে কে আগে খুঁজে পেয়েছিলেন তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। পরে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় যে, পায়ের ছাপের ফসিলটি ন্যাপই প্রথম খুঁজে পান। পরবর্তীতে ১৯২২ সালের ৮ অক্টোবর নিউইয়র্ক সানডে আমেরিকান পত্রিকায় পায়ের ছাপের ফসিলটি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারপরই কোটি কোটি বছর পুরনো ছাপটি নিয়ে নানা মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
ছাপটিকে নিয়ে রহস্য এখনও মেটেনি! ফসিলে পরিস্কার বোঝা যায়, আধুনিক জুতোর সঙ্গে ২০ কোটি বছরের পুরনো জুতোর অনেক মিল রয়েছে। ছাপ দেখে বোঝাই যায় সেই জুতোয় খুব সুক্ষ্ণভাবে সেলাই রয়েছে। যা একমাত্র মেশিনেই করা সম্ভব।
শত বছর ধরে তাই ছাপটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন রয়েই গেছে। মানুষের উৎপত্তিকাল তাহলে কবে? যদি মানুষের অস্তিত্ব ২০ কোটি বছর আগেও থেকে থাকে তবে ইতিহাসই তো নতুন করে লিখতে হবে। তাছাড়া সেই সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল কিনা সেটিও বড় প্রশ্ন!
অনেকের মতে আধুনিক যুগের কোনো মানুষই হয়তো ২০ কোটি বছর আগে পা ফেলেছিল নেভাডার ফিশার ক্যানিয়নে। আবার কারও মতে, ভিনগ্রহ থেকে আসা বুদ্ধিমান মানুষ হয়তো এসেছিল পৃথিবী ভ্রমণে। কোনো কোনো বিজ্ঞানী অবশ্য পায়ের ছাপটিকে প্রকৃতির খেয়াল বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। কিন্তু তাতে কান দেননি অনেকেই। তাই সমাধানও মেলেনি ফিশার ক্যানিয়নের পায়ের ছাপ রহস্যের।