জেনে নিন আপনার প্রেমের ধরন

আপডেট: February 15, 2020, 10:12 pm

সোনার দেশ ডেস্ক


ভালোবাসা জটিল এবং শক্তিশালী বিষয়, যা পেতে হয় সংবেদনশীল ও সামাজিক উপায়ে। প্রয়াত মনোবিজ্ঞানী জন অ্যালান লির মতে, ভালোবাসার ছয়টি শৈলী রয়েছে। এগুলো হলো- আগপে, লুডাস, স্টার্জ, ইরোস, ম্যানিয়া এবং প্রাগমা। এই শৈলীর মাধ্যমে আপনি কী ধরনের প্রেমিক/প্রেমিকা তা জানতে পারবেন এবং আপনার কী ধরনের প্রেমিক/প্রেমিকা প্রয়োজন তাও জানতে পারবেন।
যখন আমরা কাউকে ভালোবাসি তখন তাকে মন থেকে খুব অনুভব করি। অনুভবের ফলে ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়। তবে আমরা ভালোবাসা শব্দটি বিভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহার করি। আমরা আমাদের সঙ্গী, পরিবার, বন্ধু কিংবা কাজ এমনকি গাড়িকেও ভালোবেসে থাকি। আসলে আমরা ‘ভালোবাসা’ শব্দটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করছি যা প্রেমের বিভিন্ন মাত্রা উপস্থাপন করে।
প্রাচীন গ্রীকরা বিভিন্ন ধরনের প্রেমের বর্ণনা দিয়েছেন। গ্রীকদের অনুসরণ করে সমাজবিজ্ঞানী জন অ্যালান লি প্রেমের এই ছয়টি শৈলী তুলে ধরেছেন। তবে প্রেমের এই শৈলী অর্থাৎ ধরনগুলো পরিবর্তনশীল। চলুন জেনে নেয়া যাক এই ছয়টি শৈলী সম্পর্কে-
ইরোস: এই ধরনটি সাধারণত রোমান্টিক প্রেমের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের প্রেমিক-প্রেমিকারা নিজেদের মধ্যে গভীর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। যতদিন এদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থাকে ততদিন এরা শারীরিক সম্পর্ককে আরো গভীরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এভাবে সম্পর্ক যত দিন যায় তত নতুন আকার ধারণ করে এবং গভীর হতে থাকে।
স্টার্জ: এই ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে সম্পর্কগুলো স্থিতিশীল এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। তারা নিজেদের মানসিক ঘনিষ্ঠতা এবং বিশ্বাসকে মূল্য দেয়। প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে একটু এদিক-ওদিক হলেই প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন প্রেম চালিয়ে নেয়া ব্যক্তিদের জন্য ধরনটি গুরুত্বপূর্ণ।
লুডিক: এই ধরনের লোকেরা প্রেমকে খেলা হিসেবে দেখে। তাদের লক্ষ্য এই খেলায় বিজয় অর্জন করা। এই ধরনের ব্যক্তি সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। তাদের প্রেমে কোনো প্রতিশ্রুতি থাকে না। তাদের সঙ্গীর মানসিকতার চেয়ে শারীরিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি বেশি গুরুত্ব থাকে।
প্রাগমা: এই ধরনের প্রেমে সাধারণত ব্যবহারিক আচরণ মুখ্য। প্রাগমা শৈলী ধারণকারীরা সঙ্গীর বিভিন্ন চাহিদা পূরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। এটি হতে পারে সামাজিক বা আর্থিক চাহিদা। সঙ্গীকে খুশি রাখতে অর্থ খরচ করতে তারা দ্বিধা করে না।
ম্যানিয়া: এটি একটি আবেগী প্রেমের ধরন। এই বৈশিষ্ট্যের ব্যক্তিরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রচুর আবেগী হয় এবং সম্পর্ককে জীবনের সবকিছু বলে মনে করে। যদি কোনো কারণে সম্পর্ক ভেঙে যায় সেক্ষেত্রে এরা আত্মহত্যাও করতে পারে।
আগপে: এই ধরনের প্রেমিকরা খুব আগ্রাসী এবং যত্নশীল। এরা খুবই নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে। একে অপরের প্রতি যত্নশীল হয়। এই ভালোবাসায় সন্তুষ্টির পরিমাণ খুব বেশি থাকে।
ভালোবাসা সম্পর্কে কিছু সত্য: আমরা যে ধরনের ভালোবাসা অনুভব করি তা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। সম্পর্কের শুরুতে আমরা সঙ্গীকে অনেক বেশি অনুভব করি। প্রেমের প্রথম দিকে আমরা খুব রোমান্টিক থাকি। তবে প্রায় সমস্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই তীব্র আবেগগুলো টেকসই হয় না এবং এক সময় বিবর্ণ হয়ে যায়।