বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

জেলা আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব তৃণমূলের শক্তি ও সাহস নেতৃত্বের সাথে মেলাতে হবে

আপডেট: December 10, 2019, 1:24 am

অনেক জল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সফলভাবেই সম্পন্ন হয়ে গেল। রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা আওয়ামী লীগৈর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতাকর্মিদের চমক (!) সৃষ্টি করে রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সাংসদ মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা নেতৃত্ব লাভ করলেন। এর মধ্য দিয়ে বাদ পড়লেন আগের কমিটির বহুল আলোচিত-সমালোচিত সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কাউন্সিল অধিবেশন পরিচালনা করেন। উপস্থিত কাউন্সিলরগণ সভাপতি ও সম্পাদক পদের জন্য নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করেন। এরপর কাউন্সিলর ও প্রার্থীগণ নেতৃত্ব নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অর্পণ করেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। এরপর দলীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলার পরে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। সভাপতি ও সাধারণ সম্পদকের নাম ঘোষিত হলে উপস্থিত কাউন্সিলরগণ তা মেনে নেন। এবং বিফল প্রার্থীরাও এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের হয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কোনো বাহিনী আমাদের শক্তি না, আওয়ামী লীগের কর্মীরা আমাদের শক্তি, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ আমাদের শক্তি। তাই আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে সবসময়। আগামিতে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা দলকে সংগঠিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন করবেন। দলে কোনো বিভেদ বা বিভাজন তৈরি করবেন না।
মোহাম্মদ নাসিমের এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মিদেরও। এই কর্মিরা প্রত্যাশা করে যারা নেতৃত্ব লাভ করেন তারা সঠিকভাবে দলকে পরিচালিত করবেন এবং সেটি সততার সাথে ও যোগ্যতার সাথে। কিন্তু ওইসব কর্মিরা চলমান নেতৃত্বের কাছে সহসই্ হোঁচট খান। নিবেদিতপ্রাণ কর্মিরা অবহেলিত হন এবং কখনো কখনো তারা তিব্র বঞ্চনার মুখে পড়েন। নিশ্চয় এ ধরনের নেতৃত্ব কারোরই কাম্য নয়।
যারা নেতৃত্ব পেলেন- বিশেষ করে সভাপতি পদে যিনি অধিষ্ঠিত হলেন আওয়ামী রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। এই অভিজ্ঞতাকে প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতায় সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে পারলে তৃণমূলের আকাক্সক্ষা পরিপূর্ণতা পাবে। নেতার মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এর মূলধারার রাজনীতিতে কিছু ঘাটতি থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। ছাত্র রাজনীতি করেছেন। দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ছিলেন। তরুণ ও কর্মোদ্যোগী হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব দলে এবং দলের বাইরের তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন- এ প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। যারা শীর্ষ পদে আসতে ব্যর্থ হলেন, তাঁদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কাজ করার দায়িত্বটা নতুন নেতৃত্বের উপরই বর্তাবে। নিশ্চিতভাবে তাঁরা বিষয়টিকে সেভাবেই বিবেচনা করবেন।
সময়ের সন্ধিক্ষণে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারা সুসংগঠিত করা এবং গতিশীল করার কঠিন দায়িত্ব নতুন নেতৃত্বকে গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যেই আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। এর ব্যত্যয় হলে শুধু আওয়ামী লীগ নয়Ñ বাংলাদেশকে হারতে হবে। নেতৃত্বের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে। এরজন্য আওয়ামীলীগ কর্মিদের শক্তি ও সাহসের সাথে নেতৃত্বকে মেলাতে হবে, মিলতে হবে এবং দেশের মানুষের সমর্থনের ওপর অবধারিত নির্ভর করতেই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ