জেলা পরিষদের কাজের ঠিকাদার নির্বাচনে লটারি

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


লটারী কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার-সোনার দেশ

রাজশাহী জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার নির্বাচন করতে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সব ঠিকাদারের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়। লটারিতে কাজের জন্য নির্বাচিত হন ৬৫ জন।
নগরীর শ্রীরামপুরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এই লটারি উৎসবের আয়োজন করা হয়। ঠিকাদাররা বসার জন্য সেখানে টানানো হয় সামিয়ানা। পেতে রাখা হয় চেয়ার। ঠিকাদাররা সেখানে গিয়ে বসেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে শুরু হয় লটারি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে লটারির উদ্বোধন করেন।
এরপর পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সকল সদস্য এবং নারী সদস্যরাও লটারির গুটি তোলেন। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তখন একে একে ঘোষণা করতে থাকেন নির্বাচিত ঠিকাদারদের প্রতিষ্ঠানের নাম। উপস্থিত ঠিকাদাররা এ সময় হাততালি দিয়ে লটারিতে জয়ী ঠিকাদারকে অভিনন্দন জানান।
ঠিকাদার নির্বাচনের এমন প্রক্রিয়ায় জেলা পরিষদে রীতিমতো উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। ঠিকাদাররা বলছেন, প্রকাশ্যে এমন লটারি হয় না বললেই চলে। সেক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার জানান, স্বচ্ছভাবে ঠিকাদার নির্বাচন করতেই তিনি এমন উদ্যোগ নেন। লটারি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি আগে থেকে বিষয়টি সাংবাদিকদেরও জানান। এছাড়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা চান পুলিশের। সাংবাদিক এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ জন্য কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই লটারি উৎসব শেষ হয়।
লটারিতে কোনো কাজ পাননি জেলার দুর্গাপুরের ঠিকাদার মোবারক মোল্লা। তারপরেও খুশি তিনি। মোবারক মোল্লা বলেন, ‘প্রকাশ্যে এমন লটারি বহুদিন দেখিনি। কাজ না পেলেও আফসোস নেই। এটা ভাগ্য। কিন্তু প্রায় সময়ই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় অনেক ঠিকাদারকে একাধিক কাজ দেয়া হয়। আবার কাউকে একটিও দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জেলা পরিষদ।’
জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ ও কবরস্থানের উন্নয়ন কাজের জন্য সম্প্রতি ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৬৫টি গ্রুপের এই কাজের জন্য ৯ হাজার ২০০টি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্য থেকে লটারি করে ৬৫ জন ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়।
এসব ঠিকাদারদের যত দ্রুত সম্ভব কার্যাদেশ প্রদান করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামি দুই মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকার এসব উন্নয়ন কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার লটারি উৎসবে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ নাইমুল হুদা রানা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. দেওয়ান মো. শাহরিয়ার ফিরোজসহ পরিষদের সকল সদস্য, নারী সদস্য এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ