জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুঠিয়ায় দুপক্ষের উত্তেজনা

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২০, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুঠিয়ায় একটি স্কুলের পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন বরণ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনে অতিথি হিসাবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর আগমন উপলক্ষে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে উত্তেজনার বিষয়টি স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নতুনদের বরণ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পুঠিয়া-দুর্গাপুর সাংসদ ডা. মনসুর রহমান। আর বিশেষ অতিথি থাকবেন, রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।
এদিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় আ’লীগের এক অংশের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। কিছু ফেসবুক পেজ ও নিজস্ব পেজে হুমকির বিষয়টি পোষ্ট করা হয়েছে। তারা ফেইসবুকে যা লিখেছেন তা হবুহু তুলে ধরা হলো ‘রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আপনি পুঠিয়ার নেতাকর্মীদের ইফতার কেড়ে নিয়েছিলেন সেই পুঠিয়াতে কোন লজ্জায় আসবেন? কেন মোহাম্মদ আলী সরকারকে চিপগেষ্ট করা হচ্ছে? এখানে ঐসব লাঞ্চিত তৃর্ণমূল এর কর্মীরা যদি জুতা মারেন তাহলে কি ভুল হবে? যে মানুষ রোজাদারের ইফতার কেড়ে নেয় সে কেমন নেতা? তার আবার তাবিদারী করি আমরা হায়রে রাজনীতি! তাই আসবেন না পুঠিয়াতে, আসলে পিঠের চামড়া থাকবে না।’
এ বিষয়ে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাবেক জেলা আ’লীগের সংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ বলেন, ‘আগামীকাল সোমবার সকালে স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নতুনদের বরণ করা হবে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের দু’জন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন তাদের সম্মান জানানো হবে। সে উপলক্ষে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে এমপি মহাদয়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেবসহ অনেকই উপস্থিত থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে গত দু’দিন থেকে অনেককেই দেখছি ফেইসবুকে বিভিন্ন কথাবার্তা লিখছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আবুল ফজল বলেন, জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রতি বছরের ন্যায় গত রমজান মাসেও নগরের একটি হোটেলে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। সে ইফতার মাহফিলে উপজেলা চেয়ারম্যানের কয়েকজন সফর সঙ্গীও যোগদান করেন।
এক পর্যায়ে ওই সফর সঙ্গীরা ইফতারের প্যাকেট নিয়ে হোটেল ত্যাগ করতে চাইলে ওই হোটেলের কর্মরত লোকজন তাদের বলেন, অনুষ্ঠান স্থলে ইফতার শেষ করতে। বাহিরে প্যাকেট নিয়ে যাওয়া নিষেধ আছে। সে সময় চেয়ারম্যানের সফরসঙ্গীরা প্যাকেট রেখে বাহিরে চলে আসেন। এর পরের দিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে আমি তাদের নিকট ক্ষমাও চেয়েছিলাম। চেয়ারম্যান সাহেব পুঠিয়াতে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান উপলক্ষে ফেইসবুকে গত দু’দিন থেকে নানা কথাবার্তা লিখে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমরা সমঝোতার চেষ্টা করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ