জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক পেলেন প্রার্থীরা, প্রচারণা শুরু || ভুলুর তালগাছ, মোহাম্মদ আলীর আনারস

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করেন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার কাজী আশরাফ উদ্দীন।
নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও রাজপাড়া থানা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রামানিক জানান, প্রথমে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয়। চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলু নিজে উপস্থিত ছিলেন। তবে অপর প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার তার মনোনীত একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। নির্বাচনের জন্য তারা দু’জনই আনারস প্রাতীক চান। এ জন্য লটারি করে তাদের প্রতীক নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
লটারিতে মাহবুব জামান ভুলু পেয়েছেন তালগাছ প্রতীক। আর মোহাম্মাদ আলী সরকার পেয়েছেন আনারস প্রতীক। পরে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রার্থীদের একাধিক ব্যক্তি একই প্রতীক চাইলে প্রথমে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। সেটা না হলে লটারি করা হয়। এভাবে তাদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
সাধারণ সদস্য পদে দুই নম্বর ওয়ার্ডে আবু বাক্কার (তালা), গোলাম মোস্তফা (হাতি) ও সাইফুল হক (টিউবয়েল) প্রতীক পেয়েছেন। তিন নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী কামরুল হাসান (তালা) ও রবিউল আলম (টিউবওয়েল) প্রতীক পেয়েছেন। চার নম্বর ওয়ার্ডে এমদাদুল হক (তালা) ও ফারুক রহমান (টিউবয়েল) প্রতীক পেয়েছেন।
পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবদুল মান্নান (ঘুড়ি), দীন মাহমুদ বাবু (হাতি), রতœা খাতুন (টিউবয়েল), রফিকুল ইসলাম (তালা) ও মোফাজ্জল হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। সাত নম্বর ওয়ার্ডে ইকবাল হোসেন (তালা), দিলীপ কুমার সরকার (বৈদ্যুতিক পাখা), শফিকুল ইসলাম (হাতি) ও খন্দকার রবিউল ইসলাম (টিউবয়েল) প্রতীক পেয়েছেন।
আট নম্বর ওয়ার্ডে রেজাউল করিম (টিউবয়েল) ও মান্নান ফিরোজ (তালা) প্রতীক পেয়েছেন। নয় নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আবুল ফজল (টিউবয়েল) ও গোলাম ফারুক (তালা) প্রতীক পেয়েছেন। দশ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী এসএম মাহবুবুর রহমান (টিউবয়েল), আবদুর রশিদ (ঢোল), আল মামুন প্রামানিক (তালা), আবদুস সালাম (ক্রিকেট ব্যাট), এনামুল হক (বৈদ্যুতিক পাখা) ও শাহ আলমকে (হাতি) প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়া ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আবু জাফর প্রামানিক (তালা), এসএফ মাজদুল (টিউবয়েল), ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদ (টিউবয়েল), আসাদুজ্জামান মাসুদ (তালা) ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফজলুল হক (টিউবয়েল), জামেলা বেগম (তালা) এবং আজিবর রহমান (হাতি) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী সদস্যর দুই নম্বর ওয়ার্ডে শাহানারা বেগম (হরিণ), ইপফাৎ আরা কামাল (টেবিল ঘড়ি), সুফিয়া বেগম (দোয়াত কলম), শিউলী রানী রায় (ফুটবল), তিন নম্বর ওয়ার্ডে মর্জিনা বেগম (হরিণ), রাবিয়া খাতুন (ফুটবল), চার নম্বর ওয়ার্ডে সেলিনা আক্তার (ফুটবল), সাবিনা ইয়াসমিন (হরিণ), নারগিস বিবি (দোয়াত কলম), লালবানু (মাইক) ও পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ন্তী সরকার (হরিণ) এবং রেহানা আক্তার (ফুটবল) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের এক নম্বরের কৃষ্ণা দেবী ও সাধারণ ওয়ার্ড এক এর প্রার্থী আবদুস সালাম, ছয় এর নাইমুল হুদা রানা, ১১ এর মাহমুদুর রহমান ও ১৫ এর নূর মোহাম্মদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।
এদিকে গতকাল প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। পুরোদমে চলছে পোস্টার ছাপানোর কাজ। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের প্রতীক শোভা পাচ্ছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যায় ও ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় করতে পারবেন। আর সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থীরা ব্যক্তিগত ব্যয় সর্বোচ্চ ১০ হাজার এবং নির্বাচনী ব্যয় এক লাখ টাকা করতে পারবেন।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৯৬ ও নারী ভোটার ২৭৫ জন। ১৫টি ভোটকেন্দ্রের ৩০টি কক্ষে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জেলার প্রতিটি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাই এই নির্বাচনের ভোটার। প্রার্থীদের এদের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করতে হবে ভোটকেন্দ্রের জন্য তাদের এজেন্ট।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ