জেলা শহর ছেড়ে ইউনিয়ন পরিষদে পাসপোর্ট অফিস!

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরে পাসপোর্ট অফিসের জন্য নির্ধারিত জমি-সোনরা দেশ

নাটোরে জেলা শহর ব্যতিরেকেই ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে পাসপোর্ট অফিস। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তারা এরূপ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করলেও বিচেনায় নেয়া হয়নি তা। অপরদিকে ভূমি অধিগ্রহণ নীতিমালা অমান্য করে একজন ব্যবসায়ীর নির্র্মাণাধীন ৪ তলা মার্কেট অধিগ্রহণ করা হলে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন ওই ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীর দাবি তিনি ওই জায়গার অপর ব্যাংক থেকে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে লিখিত আপত্তি জানালেও তা বিবেচনায় আনছেনা জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। এছাড়া জেলা শহরের বাইরে পাসপোর্ট আিফস নির্মাণ করা হলে সেখানে যাতায়াতের জন্য জেলা বাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।
নাটোর শহরের মল্লিকহাটি মহল্লার অধিবাসী ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, তিনি একজন বেকারী ব্যবসায়ী। নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বেকারী সামগ্রী তৈরির জন্য প্রতিবেশীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে তিনি শহরের বাইরে বড় হরিশপুর ইউনিয়নের বড়হরিশপুর মৌজায় বিভিন্ন সময়ে জমি ক্রয় ও এওয়াজবদল করে ১২৫৭.১২৫৮.১২৫৯ ও ১২৬০ দাগে মোট ৪১ মতাংশ জমির মালিক হন। এরপর ওই জমির সামনে মার্কেট ও পিছনে কারখানা নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালে সাউথ ইস্ট ব্যাংক থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। যা বর্তমানে সুদাসলে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা হয়েছে। এরপর উপজেলা পরিষদ থেকে নক্সা পাস করে সেখানে ৪ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে আন্ডার গ্রাউন্ডসহ দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজ চলছে । দোকান ঘরগুলোর ছাদ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ অবস্থায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর তার ওই জমির সন্মুখভাগে মার্কেটের জন্য নির্মিত ভবনের ২৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য পত্র পান এবং আপত্তি থাকলে ১০ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে দাখিলের জন্য নাটোর জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে পত্র পান। ওই পত্র প্রাপ্তির পর তিনি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের ভূমি হুকুম দকল শাখায় লিখিত অপত্তি দাখিল করেন। এরপর গত গত ৫ নভেম্বর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিশ্বস্ত মারফত জানতে পেরেছি ওই জমি হুকুম দখলের জন্য জেলা প্রশাসন অটল রয়েছেন। তিনি দাবি করেন তার বর্তমান জমির মূল্য শতাংশ প্রতি প্রায় ১০ লাখ টাকা । কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত হওয়ায় শতাংশ সরকারি গড় মূল্য ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা শতাংশ। এছাড়া তিনি দোকান ঘর ইজারা দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কারখানার জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকার মেশিনারী ক্রয় করেছেন। এ অবস্থায় ওই জমি অধিগ্রহণ করা হলে তিনি পথে বসবেন।
নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, গত নভেম্বর মাসে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় প্রস্তাবিত জায়গায় পাসপোর্ট অফিস না করে কালেক্টরেট অফিসের সামনে অথবা শহরের মধ্যে কোন ফাঁকা জায়গায় করার প্রস্তাব করা হয়। কারণ ফাকা জায়গা অধিগ্রহণ করা হলে সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হবে। ওই সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশ একমত পোষণ করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে শহরের বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ আমাদের বোধগম্য নয়। এর ফলে একজন মানুষকে রাতারাতি নিঃস্ব করে দেয়া হবে শুধু তাই নয়। শহরের বাইরে পাসপোর্ট অফিসে যাতায়াতের জন্য লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।
এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আলী আশরাফ জানান, তার আগের কর্মকর্তারা ওই জমি সিলেকশান করে অনুমোদনের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ওই জায়গা অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন । এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
অপরদিকে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সুত্রে জানা যায়, যে কোন সরকারি সংস্থার জন্য ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসন জমি নির্ধারণ এবং অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে নির্দ্দিষ্ট জমি অধিগ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যা অধিগ্রহণ নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় পাসপোর্ট অফিসের জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপনের কথা স্বীকার করে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহজিয়াজ বলেন, সেখানে অন্যত্র জমি দেখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পাসপোর্ট অফিস অনড় থাকায় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ওই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অপত্তির শুনানী গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ