জেল থেকে বেরিয়ে খুন হলেন হত্যা মামলার আসামি মোহন

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২৪, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি:


জেল থেকে বেড়নোর প্রায় চার মাস পর কুপিয়ে খুন করা হলো হত্যা মামলার আসামি ভ্যানচালক মোহন আলীকে (২২)। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাটোরের বাগাতিপাড়ার পাঁকা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চকমহাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহন আলী উপজেলার চকমহাপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক।

খুন পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চার্জারচালিত ভ্যান রাস্তার মধ্যে অকেজো হয়ে পড়লে মেরামতের জন্য পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলার খাগোরবাড়িয়া বাজারের মকবুল মেকানিকের কাছে নিয়ে যান মোহন। ভ্যান মেরামত করে বাড়ি ফেরার পথে চকমহাপুর এলাকার ফাঁকা রাস্তায় অতর্কিত ভাবে তাকে কুপিয়ে জখম করে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। কিছুক্ষণ পর তার চিৎকারে স্থানীয় পথচারীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে শুক্রবার ভোরবেলা ঢাকায় নেয়ার পথে মোহনের মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেছেন নিহতের মামা আয়নাল আলী। তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে খাগোরবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি খুন হন। সেই হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তার ভাগ্নে মোহনকেও হত্যা মামলার আসামি করা হয়। ওই মামলায় সে এত দিন কারাগারে ছিল। তবে প্রায় চার মাস আগে মোহন জামিনে মুক্তি পায়। তিনি আরো জানান, মোহনকে আসামি করেই থেমে থাকেনি নিহত জাকিরের পরিবার। তারা আদালতেই মোহনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। জামিনে মুক্তির পর থেকে প্রায়ই তার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তারা। এবার তারা পরিকল্পনা করে মোহনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। যারা তার ভাগ্নেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে মেরেছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নান্নু খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনার দেশ’কে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মামা বাদী হয়ে একটি মামলা রজু করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি দূত সময়ের মধ্যে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।

Exit mobile version