জোর করা চলবে না, বিয়েতে লাগবে নারীদের সম্মতি, আচমকাই ভোলবদল তালিবানের

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২১, ৮:১৪ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


ফের দেশবাসীর সামনে ভাবমূর্তি ফেরানোর চেষ্টায় তালিবান। এবার তাদের ফরমান আফগান নারীদের বিয়েকে কেন্দ্র করে। যাদের ভবিষ্যৎ ইতোমধ্যে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তবুও নয়া ফরমানে ঘোষণা করা হয়েছে, আফগান নারী পণ্য নন। তাই জোর করে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া চলবে না। বিয়ের আগে বাড়ির মেয়ের সম্মতিও নিতে হবে।

নয়া ফরমান জারি করেছে তালিবানে তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তার মতে, “আমরা সবসময় নারীদের সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। তাই আমরা কখনও আমাদের দেশের পণ্য বলে মনে করি না। আমরা মনে করি বিয়েতে একজন পুরুষের যেমন মতামত দেওয়ার অধিকার আছে, ঠিক তেমন-ই একজন নারীর সেই অধিকার আছে।”

তা-হলে কেন ক্ষমতা দখলের পর আফগান নারীদের বোরখার আড়ালে ঠেলে দেওয়া হল? কেন সরকারি ও বেসরকারি সব জায়গা থেকে নারীদের নিষিদ্ধ করা হল? কেন দেশের সিনেমা-নাটকে নারীদের অভিনয়ের উপর ফতোয়া জারি করা হল? এতদিন পরেও অবশ্য এই প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই তালিবান প্রশাসনের কাছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, তালিবান শাসকরা খুব ভালভাবেই জানে, আফগানিস্তান তো বটেই, এমনকী, তামাম দ্ুিনয়া তাদের বিশ্বাস করে না। তাই গত তিন মাস ধরে ভাবমূর্তি ফেরাতে মরিয়া তারা। আর তাই বারবার অস্ত্র করা হচ্ছে দেশের নারীদের।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ থেকে ২০০১- এই সময়ে আফগানিস্তানে নারীদের বাড়ি থেকে একা বেরনোর কোনও অনুমতি ছিল না। সেই পরিস্থিতি এখন অনেক বদলেছে বলেও এদিন দাবি করেছে জাবিউল্লাহ। তার দাবি, “আমরা চাই নারীরা আবার স্কুলে ফিরুন। পড়াশোনা শুরু করুন।” কিন্তু কে বিশ্বাস করে এই কথা। কারণ, বাস্তবের সঙ্গে এই বক্তব্যের জমিন-আসমান ফারাক থেকেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ