জোর করে ধর্মান্তকরণ ইসলামে অপরাধ, কবুল পাক প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট: মার্চ ১৬, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জোর করে কারও ধর্ম পরিবর্তন করা বা কারও ধর্মস্থানে ভাঙচুর চালানো ইসলামে অপরাধ৷ খোদ পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুখে শোনা গেল এ কথা৷ ধর্ম নিয়ে যে দেশে ‘গোঁড়ামি’ তুঙ্গে, সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ৷
পাকিস্তানে প্রায়শই সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নেমে আসে আক্রমণ৷ ভেঙে দেওয়া হয় মন্দির৷ জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয় তাঁদের৷ অনেকে আবার একে ইসলামের অঙ্গ বলেই মনে করেন৷ কিন্তু সে সবের বিরুদ্ধে এবার কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ জানালেন, কে স্বর্গে যাবে আর কে নরকে যাবে, তার বিচার করার দরকার নেই৷ বরং সকলে মিলে চেষ্টা করা উচিত, যাতে পাকিস্তান স্বর্গসমান হয়ে উঠতে পারে৷ ধর্মীয় গোঁড়ামিতে রাশ টানতে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়৷ তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ই্সলাম কখনও কোনও ধর্মকে অসম্মান করতে শেখায় না৷ বরং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষকে সমান সম্মান দেয়ার কথাই শেখায় ইসলাম ধর্ম৷ তাই কারও ধর্মবোধে আঘাত করা বা ধর্মস্থানে আঘাত হানা ইসলামে অপরাধ৷ তাঁর মতে, ধর্ম নিয়ে পাকিস্তানের কোনও সমস্যা নেই৷ সমস্যা যদি কিছু থেকে থাকে তবে তা দেশের অভ্যন্তরে বাসা বেঁধে থাকা সন্ত্রাস৷ সেই সন্ত্রাসীরাই ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করে, মানুষকে উত্যক্ত করে৷ নয়তো ইসলাম কখনও অন্য ধর্মকে ছোট করাকে প্রশ্রয় দেয় না৷ আর তাই পাক প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন, এমন এক পাকিস্তান যা হবে সন্ত্রাসহীন৷ যেখানে প্রত্যেকে নির্ভয়ে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবেন৷
ধর্ম নিয়ে গোঁড়ামি, সন্ত্রাসের সঙ্গে ধর্মের মেলামেশায় খোদ পাকিস্তানই যে বিব্রত তা পাক প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট৷ বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় দেশটিকে৷ বাইরে যতই ঢেকে রাখা হোক মাঝেমধ্যেই তা বেআব্রু হয়ে পড়ে৷ আর তাই দেশের ভিতর থেকেই এবার তা নির্মূল করার ডাক দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷- সংবাদ প্রতিদিন