বেড়েছে ঠাণ্ডা-জ্বরের প্রকোপ II শিশু ও বয়স্কদের সতর্ক থাকার আহ্বান

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ


মাহাবুল ইসলাম:শীতের বিদায় বেলায় বেড়েছে ঠাণ্ডা-জ্বরের মৌসুমি প্রকোপ। যেখানে শিশু ও বয়স্করাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ভুগছেন অন্য বয়সীরাও। করোনা পরবর্তী সময়ে সামান্য ঠাণ্ডা-জ্বরেও বেশ ভুগাচ্ছে মানুষকে। একারণে শিশু ও বয়স্কদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাড়তি যত্ন নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
রাজশাহীর নগরসহ উপজেলা পর্যায়েও সর্দি-কাশি-জ¦রের প্রকোপ বেড়েছে। এতে একই পরিবারের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন।

জ্বরে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, শীতের বিদায় বেলায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান বাড়ছে। এরমধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিও ঝরছে। একারণে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এই জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। সাধারণত তিন থেকে সাতদিন জ্বর, সর্দি ও কাশির তীব্রতা থাকছে।

জ্বরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্যমতে, গত ১৫ দিন আগে হাসপাতালে মোট রোগী ছিলো ২ হাজার ২০০ জন। যেখানে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ছিলো ৪৪৫ জন এবং মেডিসিন ওয়ার্ডে ৬২৯ জন। যা সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যখাক্রমে শিশু ওয়ার্ডে ছিলো ৪৮৫ জন এবং মেডিসিন ওয়ার্ডে ৬৬০ জন। এদিন মোট রোগী ছিলো ২ হাজার ৬৯৩ জন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, আবহওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। একারণে সপ্তাহখানেক ধরে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শনিবার মারা গেছেন পবা উপজেলার সোনাকান্দি এলাকার বাসিন্দা মন্টু ইসলাম (৭৫)। তার স্বজনরা জানান, মূলত ঠাণ্ডা-জ্বর নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলেন। সঙ্গে বয়সজনিত শারীরিক সমস্যাও ছিলো। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা গেছেন।

পবার আরেক বাসিন্দা চম্বা বেগম বলেন, তার নাতনি গত কয়েকদিন ধরেই সর্দি-জ্বরে ভুগছে। বাসার অন্য সদস্যরাও সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনেই খাওয়ানো হচ্ছে। কমছে আবার বাড়ছে। আবহওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, আবহওয়ার পরিবর্তনের সময় ফ্লু এর প্রকোপ বাড়ে। এবারও বেড়েছে। আর রাজশাহীতে স্বল্প দিনের ব্যবধানে দুইবার বৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকোপ বৃদ্ধির শঙ্কা বেড়ে যায়। সুতরাং সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং যাদের অ্যাজমা, হাঁপানি, ব্রংকিওলাইটিস ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। এসময়টাই ফলমূলসহ গরম খাবার বেশি খেতে হবে। শরীরে শক্তি যোগায় এমন খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। আর জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সর্দি-জ¦র মহামারী আকার ধারণ না করলেও প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুদের বিষয়ে যন্ত্রবান হতে বলা হচ্ছে। এছাড়া ওষুধসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ