জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব রাজশাহীর বাজারে, বিপাকে মানুষ

আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২২, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর বাজারের চিত্র পুরো পালটে গেছে। প্রায় সকল পণ্যের দামই বাড়তি। কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মাছ-মাংসের দাম। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে। হাফ সেঞ্চুরিতে ডিমের হালি। দাম বেড়ে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে। এছাড়া চালের বাজারেও প্রতিকেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) নগরীর সাহেব বাজার, মাস্টার পাড়া, উপশহর নিউ মার্কেট ও তেরখাদিয়া কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র উঠে আসে।

বাজারে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে, কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে, করলা কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে, ঢেঁড়স ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল প্রতিকেজি ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ২৫ থেকে ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, পুঁইশাক শাক প্রতিকেজি ২০ টাকা দরে, লালশাক ও সবুজ শাক প্রতিকেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কলমি শাক প্রতি আঁটি বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ টাকা দরে, লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ টাকা, দেশি শসা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে, মুলা প্রতিকেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজ প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। দেশি রসুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা ও ইন্ডিয়ান রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে। আদা প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে এবং খোলা ভোজ্যতেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা দরে।

মাস্টার পাড়া সবজি বাজারে এসে দাম কষাকষিতে ব্যস্ত নগরীর আহম্মেদপুর বড় মসজিদ এলাকার আনজুয়ারা। তিনি বলেন, পরিবারে ৫ জন সদস্য দিনে প্রায় দেড় কেজি চাল লাগে। সাথে সবজি অথবা মাছ-মাংস। একজনের আয় দিয়ে পুরো সংসার চলে। বেগুন, পেঁয়াজ, পটল ও ডিমের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে সামনের দিনে না খেয়ে থাকতে হবে। মাছ-মাংস না থাকলেও ডিম দিয়ে এক বেলা চালিয়ে নেওয়া যেত। এখন ডিমের দামও বেড়েছে।

এদিকে, মাংসের বাজারে গরুর মাংস প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা দরে, খাসির মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা দরে ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজি দরে এবং হাঁস প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা দরে।

কুমারপাড়ার বাসিন্দা অভিজিৎ বলেন, বাজারে এসে দাম শুনে কি বলবো ভাষা হারিয়ে ফেলার মতো অবস্থা। এইভাবে সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে মানুষের জীবনযাপন অনেক কঠিন হয়ে পরবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ