‘জ্বিন’ আতঙ্কে ৩০ ছাত্রী অসুস্থ

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



যশোরের আদ দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের ছাত্রীদের মধ্যে ‘জ্বিন’ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
‘জ্বিন’ আতঙ্কে শনিবার রাতে ৩০ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের পাঁচজনকে আজ রোববার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত নার্সিং ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথমে গোপনীয়তা রক্ষা করে। পরে অবশ্য তারা মুখ খুলেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নার্সিং ইনস্টিটিউটের দুই শিক্ষার্থীর সাইকোলজিক্যাল ইলনেসের কারণে অন্যরা ম্যাস হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে, তারা এখন বিপদমুক্ত।
যশোর শহরতলীর চাঁচড়া এলাকায় বেসরকারি আদ দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটটি অবস্থিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ইনস্টিটিউটের দোতলার যে রুমে শিক্ষার্থীরা থাকে, তার একটিরও দরজা নেই। আর নিচতলায় তাদের শেখানোর জন্য লাশ কাটা ঘর। এ কক্ষেরও দরজা নেই। এতে শিক্ষার্থীরা মাঝে মধ্যে রাতে ভয় পান।
শিক্ষার্থীরা জানান, দুই সপ্তাহ আগে তাদের একজন রাতে ভয় পান। বিষয়টি তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। পর দিন সকালে বিষয়টি তাদের হাউজকিপারকে জানালে তিনি তাদের দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দেন। তিনি বিষয়টি বাইরে প্রকাশ করতে নিষেধ করেন।
ছাত্রীরা জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে দুইজন হঠাৎ করে ‘জ্বিন’ ‘জ্বিন’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। এক পর্যায়ে রুমে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয় এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। এ রুমে থাকা ২৯ জনসহ পাশের রুমের মেয়েরাও ভীত হয়ে পড়েন। হুড়োহুড়িতে কয়েকজন পায়ের নিচে পড়েন। এতে পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর হয়। পরে তাদের নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র শহরের রেল রোডে অবস্থিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, এ সব বিষয় যাতে বাইরে না বলা হয়, তার জন্য হাউজকিপার তাদের অনেকের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. খান শাকিল আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, নার্সিং ইনস্টিটিউটে ১৯০ জন ছাত্রী রয়েছে। এদের মধ্যে দুটি মেয়ের সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম আছে। এদের অবস্থা মাইনর এবং মেজরের মাঝামাঝি। তারা প্রায়ই এ ধরনের আচরণ করে। অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়ে।
‘বিষয়টি হাউজকিপার আমাকে কখনো জানাননি। শনিবার রাতে এ বিষয়টি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ইনস্টিটিউটের পাঁচটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আমাদের নিজস্ব হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।’
তিনি বলেন, ছাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ভবনের কিছু সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত নার্সিং ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়েরা হল ত্যাগ করেছে। আগামী ১১ মার্চ ফের কার্যক্রম শুরু হবে।- বিডিনিউজ