জয়তু জননেত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

ড. মো. হাসিবুল আলম প্রধান:


বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনের বলিষ্ঠ নেতা এবং বাংলাদেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক ও বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রদূত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিচল নেতৃত্ব আর মেধার আলোয় বিশ্ব দরবারে আজ অন্য এক আলোকিত বাংলাদেশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই পথে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেত্রী ১৯৯৬ সালে প্রথম এবং ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে সফল ও দক্ষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার মেধা ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বেন কারণে স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, জেলখানায় নিহত জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কতৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য বয়ে এনেছেন তিনি ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেদিন দেশের বাইরে অবস্থান না করলে তাদের জীবনেও নেমে আসতো একই নির্মম পরিণতি। নির্বাসিত ছয় বছর শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফেরার দিন থেকেই শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেন কত বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিতে হবে, সামরিক জান্তাদের কত নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের নেপথ্যের কুশীলব ও এই বাংলার মাটিতে রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনকারী সামরিক জান্তা প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশে ফেরার পর তাঁকে তাঁদের বাড়ি ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে ঢুকতে বাঁধা দেয়। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয় যাতে শেখ হাসিনা সেই বাড়িতে ঢুকতে না পারেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সামরিক জান্তা এরশাদের রোষানলে ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে তাঁকে গৃহবন্দি হতে হয়। ১৯৮৫ সালের মার্চ মাসে তিনি আবারও তিনমাসের মত গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন আটদলীয় জোটের জনসভাস্থল লালদিঘির ময়দানে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার ট্রাক মিছিলে নির্বিচার গুলি ছুড়েছিলো এরশাদ সরকারের পুলিশ ও সাদা পোষাকধারীরা। তখন পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে ২৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৯ জন শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হন। ৯০’র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের পরও পরবর্তীতে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বারবার তাঁর উপর হামলা চালানো হয়, এমন কী নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয় জনসমাবেশে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলার কোটি কোটি মানুষের নয়নের মনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হত্যার জন্য বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-এ আওয়ামী লীগের জনসভায় চালানো হয় স্মরণাতীতকালের ভয়াবহ নারকীয় গ্রেনেড হামলা। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী মাহবুবসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা-কর্মী বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নিহত হয়েছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ এপ্রিল সামরিক জান্তার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এবং জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি যদি বাংলাদেশে না ফিরতেন তাহলে মহান মুিক্তযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের রক্ত আর দুলাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীন বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের আদলে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম একটি মৌলবাদী, জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হতো। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ৭৫’র ১৫ই আগস্ট কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংশভাবে হত্যা করার পর বিপর্যস্ত বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনিই দেশে ফিরে বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সামরিক জান্তাকে উৎখাতে আন্দোলনের ডাক দেন। তাঁর ত্য্যাগ, তিতিক্ষা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে, তাঁকে বার বার হত্যা চেষ্টা করা হলেও তিনি গণতন্ত্রে পথ থেকে সরে দাঁড়াননি।
অনেক ঘাত ও প্রতিঘাত পেরিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ ও নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের ১ম বারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। তার সরকারের আমলেই ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি কুখ্যাত ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বিচার শুরু করেন এবং তাঁর শাসনামলেই ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের আদালত কর্তৃক ঘোষিত বিচারের রায়ে প্রকাশ্য ফায়ারিং স্কোয়াডে ১৫ জন ঘাতকের মৃত্যুদ- কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সরকারের আমলেই শুরু হয় জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার। এ সরকারের শাসনামলেই মুদ্রা স্ফীতি নেমে আসে ১.৫৯ শতাংশে, হ্রাস পায় দরিদ্র্যতা। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্রীড়াসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ, সুশাসন ও উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ বছরে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কৃষিখাত, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে থেকেছে। এজন্য সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে মর্যাদাকর জাতিসংঘ পুরস্কার পেয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বেশ কয়েকজনের ফাঁসির রায় এবং ৭১’র যুদ্ধাপরাধীদের বেশ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে শেখ হাসিনার সরকার বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে; এ সরকারের আমলে জেলহত্যা মামলার বিচারও সমাপ্ত হয়েছে। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা দিয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ২২৬৪ মার্কিন ডলার। নারী-পুরুষের সমতা (জেন্ডার ইক্যুইটি) প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশ। কোন কোন ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ দেশে ও বহির্বিশে^ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু আজকের এই বাংলদেশকে আলোকিত অভিযাত্রায় আনতে অনেক লড়াই-সংগ্রাম, চড়্ইা-উৎরাই, হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে।
করোনাকালীন বৈশ্বিক মহামারীতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সব প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। করোনাকালীন দুর্যোগেও অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে আমাদের দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শী অসাধারণ নেতৃত্ব ও মানবদরদী হৃদয় নিয়ে করোনা সঙ্কটে যেভাবে দেশের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তা দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনে করোনা মোকাবেলায় সফল নারী নেতৃত্বের তালিকায় (৮ জনের) স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা পরিস্থিতিতে তিনি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতসহ দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে নিয়েছেন কার্যকরী পদক্ষেপ। করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতির নিরাপত্তা নিয়ে যে গবেষণা তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক দ্য ইকোনমিস্ট সেখানে প্রতিবেদনে দেখানো হয়, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতাতেও ভারত-চীন কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের চেয়েও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বাংলাদেশের অর্থনীতি। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, করোনাভাইরাসের মহামারী পরিস্থিতিতেও ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে ৯ম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
১৯৮১ সালে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাঁর আলোকিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে এক আলোকিত অভিযাত্রায় শামিল হয়েছেন, বিশ্ব নেতৃত্বে আজ তিনি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিয়েছেন। ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রিতে ভূষিত করে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট জন ওয়েসলিং একটি প্রমাণপত্র ‘সাইটেশান’ পাঠ করেন তার শুরুতেই লেখা ছিল -“বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনার পিতা বাংলাদেশের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আর আপনিও বারবার নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে এবং নিজের জীবনকে বিপন্ন করে দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটিয়েছেন।” বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় গার্ডিয়ান পত্রিকায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে বিশাল মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তা বিরল।’ আর শান্তিতে নোবেলজয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হোসেন ম্যানুয়েল সান্তোষ শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বমানবতার বিবেক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আরেক নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বমানবতার আলোকবর্তিকা’ হিসেবে তুলনা করেছেন। নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, “ শেখ হাসিনার নেতৃত্বই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মূল কারণ।” ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে এদেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত করা হয়। আবারো দেশে স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে, তাঁর সাহসী নেতৃত্বে যথার্থই জেগে উঠে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার সৃজনশীল ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ^ দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি আজ দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের গানে বলতে হয়, ‘তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী, অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি।’
২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অনন্য দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার নিভৃত পল্লীতে জন্মেছিলেন বলেই তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমন একজন জননন্দিত বিশ^ নেতাই কেবলমাত্র পারেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশের গন্তব্যে পৌঁেছ দিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে তাঁকে জানাই বাঙালির হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে সশ্রদ্ধ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা আপনি শতায়ু হোন এবং আপনার হাত ধরেই বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে। জয়তু শেখ হাসিনা, জয়তু বাংলাদেশ।
লেখক পরিচিতি : সভাপতি ও প্রফেসর, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
যঢ়ৎড়ফযধহ@ুধযড়ড়.পড়স