জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আ’লীগ ও বিএনপি’র হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১, ৯:০০ অপরাহ্ণ

শাহাবুদ্দিন, জয়পুরহাট:


রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জয়পুরহাট পৌরসভার নির্বাচন। এবারই প্রথম এ পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে পৌর এলাকায় এখন বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পৌর এলাকার রাস্তঘাটসহ অলিগলি। এ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ৫ জন। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৬ জন ও সাধারন কাউন্সিলর পদে ৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রার্থী যতই হোকনা কেন মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে। আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে শতভাগ বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ শামছুল হক সুষ্ঠু ভোট হলে জনগন তাকে বিজয়ী করবেন বলে আশা পোষন করছেন। এ পৌরসভায় মোট ভোটার ৫২ হাজার ৪৭৩ জন। এরমধ্যে ২৬ হাজার ৮৫৬ জন মহিলা ও ২৫ হাজার ৬১৭ জন পুরুষ ভোটার। মোট ভোট কেন্দ্র ২২ টি। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৫ জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। বিএনপি থেকে ধানের শীষ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গত পৌর নির্বাচনে পরাজিত অধ্যক্ষ শামছুল হক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে পাখা মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাওঃ জহুরুল ইসলাম। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জগ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হাসিবুল আলম ও নারিকেল গাছ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেওয়ান বেদারুল ইসলাম বেদীন। ৫ জন মেয়র প্রার্থী থাকলেও মুল লড়াই হবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে। তবে এ নির্বাচনী ভোট যুদ্ধের দৌড়ে থাকছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিবুল আলম লিটন। তাদের পরে পরেই মাঠ চষছেন তিনি। এছাড়া কাউন্সিলর আর সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা সেরেছেন। এ ব্যাপারে এলাকার একাধিক ভোটারের সাথে কথা বললে তারা জানান, এতসব উন্নয়ন আর কাজের প্রতিশ্রুতি নয়, সৎ যোগ্য ও জনদরদী প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান তারা। যারা তাদের সুখে-দু:খে পাশে থাকবে সবসময়। তবে সবার আশা ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ হবে। এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে জনগন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো দাবি করেন ৫ বছর জয়পুরহাট মেয়র থাকা কালিন সময়ে আমি যে ভাবে রাস্তা-ঘাট, শতভাগ বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ সংস্কার, ঘরে ঘরে সাধারন মানুষের যে কল্যাণমূলক কাজ করেছি এবং করোনা কালিন সময়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষের দ্বারপ্রান্তে খাবার এবং বস্ত্র নি:স্বার্থ ভাবে প্রদান করেছি তার প্রতিদান জয়পুরহাট পৌরবাসীর সম্মানিত ভোটার গণ অবশ্যই প্রতিদান দিবেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সামছুল হক জনগনকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী আদায়ে প্রক্রিয়ায় এ নির্বাচনে এসেছেন। তিনি নির্বাচিত হলে পৌর এলাকার হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে দরিদ্র তহবিল গঠন করবেন এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ভূমিকা পালনে জয়পুরহাট পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় পরিণত করবেন। এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, পৌর নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এইবারে প্রথম ইভিএম এ ভোট হওয়ায় প্রশাসন এ ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে চলছে। নির্বাচনী মাঠে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক নজরদারী। ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট পৌরসভার মানুষ চান অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও জনদরদী প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে আসুন। যাতে এলাকার উন্নয়ন হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ