জয়ের আভাস পাওয়ার পর জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এসপিডি) নেতা ও চ্যান্সেলর প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে থাকা ওলাফ শলৎস। ছবি: রয়টার্স

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১, ৯:০১ অপরাহ্ণ


জার্মানিতে মের্কেলের জোটকে হারিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টায় এসপিডি

সোনার দেশ ডেস্ক:


জার্মানির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) সরকার গঠনের জন্য জোট গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করছে।

রোববারের ভোটে ২০০৫ সাল থেকে ১৬ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় থাকা চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নকে (সিডিইউ) খুব সামান্য ব্যবধানে হারিয়েছে এসপিডি।

প্রাথমিক ফলাফলে, মধ্য-বামপন্থি দল এসপিডি মোট ভোটের ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ পেয়েছে। মের্কেলের রক্ষণশীল জোট সিডিইউ/সিএসইউ পেয়েছে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা গ্রিন পার্টি ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং লিবারেল ফ্রি ডেমোক্র্যাটস (এফডিপি) পেয়েছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।

চূড়ান্ত ফলাফলে যে দলই এগিয়ে থাক, সরকার গড়তে তাদের জোটের শরণ নিতে হবে। ফলে নতুন চ্যান্সেলর কে হবেন, তা জানতেও অপেক্ষায় থাকতে হবে।

জোট গঠনের আলোচনায় মের্কেল তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এ দেশটির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

সোমবার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্য দিয়ে দলগুলো সম্ভাব্য জোটের বিষয়ে নিজেদের ঘোষণা দেওয়া শুরু করবে।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গ্রিন পার্টি এবং এফডিপির সঙ্গে এসপিডির জোট গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও দল দুটি রক্ষণশীলদের সঙ্গে যোগ দিতে পারে বলেও আভাস হয়েছে।

এসপিডির প্রার্থী ওলাফ শলৎসকে পরবর্তী চ্যান্সেলর করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক লার্স ক্লিংবেইল এআরডি টেলিভিশনকে বলেছেন, “এসপিডি প্রথম স্থানে রয়েছে। নির্বাচনে আমরা জিতেছি।”

আর সরকার গঠনের জন্য গ্রিন পার্টি এবং এফডিপির সঙ্গে আলোচনা হবে জানিয়ে এসডিপি নেতারা পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে সোমবার বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন।

৬৩ বছর বয়সী ওলাফ শলৎস জোট গঠনে সফল হলে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি হতে পারেন এসপিডির চতুর্থ চ্যান্সেলর। আঙ্গেলা মের্কেলের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শলৎস একসময় হামবুর্গের মেয়র ছিলেন।

এবারের নির্বাচনে মের্কেলের দল সিডিইউ এ যাবৎকালের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করলেও দলটির প্রার্থী ৬০ বছর বয়সী আরমিন লাশেট এখনও নিজের চ্যান্সেলর হওয়ার সুযোগ দেখছেন।

২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইউরোপীয় রাজনীতির মঞ্চে বড় একটি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিলেন আঙ্গেলা মের্কেল। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডাব্লিউ বুশ, প্যরিসের এলিসি প্রাসাদের অধিকর্তা জ্যাক শিরাক এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তখন টনি ব্লেয়ার।

জার্মানির নতুন সরকার পরারাষ্ট্র নীতির বিষয়গুলোতে কীভাবে জড়িত হয়, তার ওপরই ইউরোপ এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বার্লিনের সম্পর্ক নির্ভর করবে। আর তা স্পষ্ট হতে কয়েক মাস লাগবে।

গ্রিন পার্টি যদি এসপিডির সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হয়, তাহলে গ্রিন পার্টি থেকে কেউ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন। এর আগে ৯০ এর দশকে এসপিডির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় জোটে জোসকা ফিশার যেমনটা হয়েছিলেন। অন্যদিকে এফডিপি হয়ত অর্থমন্ত্রীর পদ চাইবে।
ফ্রান্সের বদলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন কেনার চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন এবং প্যারিসের মধ্যে দ্বন্দ্বে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে মিত্র দেশ জার্মানি। তবে সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়া এবং চীন প্রশ্নে মিত্রদের একই অবস্থানের বিষয়ে আবারও চিন্তা করার সুযোগ পাবে বার্লিন।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিজয়ের পর জার্মানিতে এসপিডির আবারও ফিরে আসার মধ্য দিয়ে ইউরোপের কিছু অংশে মধ্য-বামপন্থিদের অন্তর্র্বতী সময়ের জন্য পুনরুত্থান ঘটার একটি ধারণা পাওয়া যায়। এ মাসের শুরুতে নরওয়েতেও মধ্য-বামপন্থিরা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।

বুথ ফেরত জরিপে এসপিডির এগিয়ে থাকার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, “তারা দারুণ।”

অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইউরোপের দেশগুলোর জন্য সাধারণ একটি রাজস্ব নীতি করতে চান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। এ বিষয়ে গ্রিন পার্টির সমর্থন থাকলেও সিডিইউ/সিএসই্উ এবং এফডিপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এক্ষেত্রে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় ধরনের বিস্তার’ চায় গ্রিন পার্টি।

তবে একটি বিষয় নিশ্চিত: ভবিষ্যৎ সরকারে অন্তর্ভুক্ত হবে না উগ্র ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ পেয়েছে দলটি। চার বছর আগে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছিল এএফডি। মূলধারার রাজনীতিকরা এ দলটির সঙ্গে জোট গড়ার কথা নাকচ করে দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ