পানে ঝড়ের ছোবল, কৃষকের স্বপ্নে আঘাত!

আপডেট: মার্চ ৫, ২০২৪, ১০:৫১ অপরাহ্ণ


মোস্তফা কামাল, কেশরহাট:রাজশাহীর মিষ্টি পান সম্প্রতি রফতানি পণ্যের সুপারিশ পাওয়াই আশায় বুক বেধেছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। কৃষকের নতুন স্বপ্নে আঘাত হেনেছে ঝড়। সোমবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ করে মোহনপুর উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার কিছু এলাকায় আঘাত হানে এ ঝড়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভবানার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানবরজ পরিদর্শন করেছেন মোহনপুর উপজেলা প্রশাসন।

ঝড়ে সূত্র মতে, পান বরজের আংশিক ক্ষতির পরিমাণ ধুরইল ইউনিয়নে ৩৪ হেক্টর, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে ১ হেক্টর, রায়ঘাটি ইউনিয়নে দশমিক ৫ হেক্টর, মৌগাছি ইউনিয়নে ১১ হেক্টর, বাকশিমইল ইউনিয়নে ১২ হেক্টর, জাহানাবাদ ইউনিয়নে ৬ হেক্টর ও কেশরহাট পৌরসভা এলাকায় দশমিক ৫ হেক্টর। এছাড়াও আমের মুকুলসহ বাড়িঘরের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলের সর্বাধিক পান উৎপাদন হয়ে থাকে মোহনপুর উপজেলায়। আয়োতনে উপজেলাটি ছোট হলেও ফসলি জমির অধিকাংশ স্থানেই মিষ্টি পানের চাষ হয়ে থাকে। প্রতিবছর এখান হাটবাজারে প্রায় ৬শ কোটি টাকার পান বাজারজাত হয়ে থাকে। এছাড়াও জেলার বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর উপজেলাতে পানের চাষ হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে রাজশাহী জেলাপ্রশাসকের বিশেষ নজরদারিতে রাজশাহীর মিষ্টি পান রফতানির জন্য জিআই সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে। সাধারণত বৈশাখী ঝড়ের আগে চৈত্র মাসে পানচাষিরা পানবরজের পুরাতন খুঁটি বদলিয়ে থাকে।

সোমবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলাজুড়ে আকষ্মিক ভাবে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। কৃষকদের অপ্রস্তুতির মধ্যেই কেশরহাট পৌর এলাকাসহ উপজেলার আমরাইল, বাকশিমইল, তেঘরমাড়িয়া, জাহানাবাদ, বিষহারাসহ অধিকাংশ গ্রামের পান বরজ ভেঙে পড়ে। মাটিতে ভেঙে না পড়লেও চালা উড়ে যাওয়া, বেড়া ভেঙে পড়াসহ অধিকাংশ পানবরজ কোনো না কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হয়েছে কৃষকরা।

উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার তেঘর মাড়িয়া গ্রামের কৃষক সামেদ আলী বলেন, আমার পানবরজসহ গ্রামের অনেক কৃষকের পান বরজ মাটিতে ভেঙে পড়েছে। অধিকাংশ বরজের চালা ঝড়ে উড়ে গেছে। উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি মহল্লার কৃষক মাহাবুর রহমান জানান, আমার পান বরজ পড়ে যায়নি তবে সম্পুর্ণ চালা উড়ে গেছে। এতে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়শা সিদ্দিকা জানান, ঝড়ে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি নিজে ধুরইল, আমরাইলসহ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখেছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পান বরজের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চেয়েছি। প্রাথমিক ভাবে একটি তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষি অফিসারকে তথ্য সংগ্রহের জন্য বলা হয়েছে। এ তালিকা হাতে পাওয়া গেলে সঠিক সংখ্যা এবং ক্ষতি সম্পর্কে জানা যাবে।