ঝরছে আর্শীবাদের বৃষ্টি II রাজশাহীতে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও নেই

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০২৩, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’র প্রভাবে রাজশাহীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ১৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আকাশ মেঘমুক্ত হলে শীত নামার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে এ বৃষ্টিকে ফল-ফসলের জন্য আর্শীবাদ বলছেন রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দিনভর মেঘলা আকাশ ছিল। পরের দিন বুধবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্য রাত থেকে রাজশাহীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরতে থাকে। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দিনভর বৃষ্টিপাত মেঘলা আকাশের কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে ঘরের বাইরে বেরিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে কর্মজীবী মানুষ ও পথচারীদের। তাদের মধ্যে অনেকেই বৃষ্টির মধ্যে রেইনকোর্ট গায়ে জড়িয়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালাতে দেখা গেছে। এছাড়া অন্যান্য দিনের তুলনায় নগরীর রাস্তাঘাট ও বাজারে মানুষের চালাচলও ছিলো কম।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেঘলা আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের কারণে রাজশাহীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমেছে। আকাশের মেঘ কেটে গেলে শীত বেশি অনুভুত হতে পারে। তবে পুরোপুরি শীত আসতে দেরি আছে। আর হঠাৎ করেই খুব বেশি তাপমাত্রা নিচে নামার সম্ভাবনা নেই বলেও জানা গেছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জৈষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. আব্দুস সালাম বলেন, গুঁড়ি গুঁড়ি এই বৃষ্টি ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’র প্রভাবে হচ্ছে। তবে রাজশাহীতে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নেই। আরও দু’এক দিন এমন বৃষ্টি ঝরতে পারে। তারপর আবহওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

তিনি আরো জানান, গত মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারও দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে বেলা ৩ টায় ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, গুঁড়ি গুঁড়ি এই বৃষ্টিপাতকে বহুল আকাঙ্খিত আর্শিবাদ হিসেবে উল্লেখ করে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন বলেন, এখন যে বৃষ্টিটা হচ্ছে, সেটা ফসলের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে এখন সরিষা লাগানো হচ্ছে। এই বৃষ্টি সরিষার জন্য দারুণভাবে কাজ করবে। এছাড়া সকল সবজির জন্য এই বৃষ্টি উপকারী। তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি বেড়ে গেলে কিছু কিছু ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে হবে।