আমের আর্শীবাদ হয়ে ঝরলো বৃষ্টি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪, ১০:৫০ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:শীত শেষে আর বসন্তের শুরুতে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে। শীতের পর দ্বিতীয় দিনের মত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহীতে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় রাজশাহীতে মানুষ, জীবজন্তু ও গাছপালায় সজীবতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির জলে গাছপালায় আটকে থাকা ধুলাবালি ধুয়েমুছে স্নিগ্ধ-মনোরম হয়ে ওঠে নগর প্রকৃতি। ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি না হলেও আমের জন্য আশীর্বাদ বলছে কৃষি অফিস।

দুর্গাপরের আমচাষি আমিনুর রহমান বলেন, আমের মুকুল এসেছে। যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে আমের জন্য কিছুটা হলেও উপকার হবে। তবে এ বৃষ্টিতে মাঠে থাকা টমেটো, সরিষা, আলুর কিছুটা ক্ষতি হবে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলুচাষি লুৎফর রহমান বলেন, ‘এই বৃষ্টি খুব বেশি নয়। এতে আলুর ক্ষতি হবে না। তবে কয়েকদিনের মধ্যে ভারি বৃষ্টি হলে আলুর ক্ষতি হতো।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, বসন্তের প্রথম দিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। তবে আপাতত আর বৃষ্টির সম্ভাবনা থানা থাকলেও আকাশ মেঘলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬:৫০ মিনিটে বৃষ্টি শুরু হয়েছে থেমে যায় ৮:৪৫ মিনিটে। এ সময়ে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে ফসলের খুব একটা ক্ষতি হবে বলে মনে হচ্ছে না। ধান ও আমের জন্য এই বৃষ্টি উপকারই হয়েছে। এছাড়া গাছপালায় একটা সজিবতা ভাব ফিরে এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান,
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টিপাতে আম চাষিদের মনে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সকাল ৯ টায় শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নেমে এসেছে স্বস্তি। কৃষি বিভাগ বলছে, আমের জন্য আর্শীবাদ এই বৃষ্টি। তবে আম চাষিরা বলছেন, কিছু আমের মুকুলের ক্ষতি হতে পারে এই বৃষ্টিপাতের ফলে।

সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আম চাষি আসমাউল ইসলাম বলেন, সকালে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে আমের মুকুলের উপকার হয়েছে। ফলে চাষিলা সেচ খরচ বেঁচে গেল। বাগানে আর সেচ দেওয়া লাগবেনা। আর মুকুর খুব একটা বড় হয়নি, সেক্ষেত্রে তেমন ক্ষতি হবেনা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাঙ্গো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, আগের যুগের মানুষ বলতেন ফাল্গুনের বৃষ্টি মানে আগুন। এই বৃষিতে কিছুটা আমের মুকুলের ক্ষতি হবে। তবে আম চাষিরা সেচ খরচ বাঁচবে। অন্যন্য ফসলেরও উপকার হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কেএম কাওছার হোসেন বলেন, মুকুল ছোট রয়েছে। তাই ক্ষতি হবে না। বরং বিভিন্ন শস্য চাষিদের উপকারে এসেছে এই বৃষ্টি। এছাড়া আম চাষিদের সেচ খরচ বাঁচবে এই বৃষ্টিতে। তবে হ্যাঁ কিছু আমের মুকুলের ক্ষতি হতে পারে। তা পরিমানে অনেক কম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ