ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা মানছেন না স্বাস্থ্য সুরক্ষা!

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সারা দেশের মত করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজশাহীতেও চলছে ‘কঠোর লকডাউন’। ওষুধ ও জরুরি পণ্যের দোকান ছাড়া শপিংমলসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে কিংবা কৌতুহলি হয়ে বের হচ্ছেন অনেকেই।
চিকিসকদের মতে, করোনার সংক্রমণ ঝুঁকিতে বেশি রয়েছেন বয়স্ক অর্থাৎ পঞ্চাশোর্ধরা। কিন্তু চলমান লকডাউনে এই শ্রেণির মানুষেরাই বেশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যত্যয় ঘটাচ্ছেন। ঘরের বাইরে এসে এদের অনেকই মাস্ক পরছেন না, মাস্ক যভাযথভাবে পরছেন না কিংবা সামাজিক দূরত্বও মানছেন না। বাজারে সবজি কিনতে, মসজিদে নামাজ আদায়ে ইফতার সামগ্রি কিনতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না তারা। এতে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ছেই।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজার, ইফতার ও খাদ্যপণ্যের দোকানস ফার্মেসি ও মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, এসব জায়গায় ৫০ উর্ধের ব্যক্তিরাই বেশি যাচ্ছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করলেও কিছুক্ষণ পরপর অনেকেই মাস্ক খুলছেন। অনেক সময় মাস্ক খুলেই কথা বলছেন। অধিকাংশ মসজিদে সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। অর্থাৎ ২০ জনের অনেক বেশি মুসল্লি নিয়ে তারাবিসহ পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রেও বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা গেছে। নগরীসহ গ্রামের অনেক মসজিদে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে না। নেই হাত ধোয়ার জন্য সাবান-পানির ব্যবস্থাও। ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে নগরীর পাড়া-মহল্লায় ইফতারির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের বেশ জটলা পরিলক্ষিত হয়েছে। এই ক্রেতাদের বড় অংশই পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি। তাদের খুব কমজনই মাস্ক পরেছিলেন। আর সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই ছিল না।
তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষায় তরুণরাও কম যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইফতারির পর ছোট-বড় দলে তারা চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। আড্ডায় অংশিতরুণরা মাস্ক পরার ক্ষেত্রে তোয়াক্কা করছে না। একে অপরের সাথে ঘেঁষে আড্ডা জমাচ্ছে রাত ১০ টা পর্যন্ত। অথচ করোনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণে তরুণরাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
বয়স্কদের বাইরে বের হওয়ার বিষয়ে একাকীত্বকে দায়ী করছেন মনোবিজ্ঞানীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফরোজা সুলতানা জানান, বয়স্করা সাধারণত সব সময় সঙ্গী খুঁজে থাকেন। তারা গল্প আড্ডা দিতে বেশি পছন্দ করেন। তারা ঘরবন্দি আবদ্ধ জীবন যতটা সম্ভব পরিহার করতে চান। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সব বয়সী মানুষকেই ঘরে আবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। এ সময় শিশুসহ অন্যরা সামাজিক মাধ্যমেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু বয়স্করা হয়তো টেলিভিশন দেখে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু বয়স্ক পুরুষরা বাইরে সময় কাটাতেই অভ্যস্ত। সে ঘরের মধ্যে নিজেকে অসহায় ভাবে। এতে তারা হয়তো বাজারে যাচ্ছেন। মসজিদে সময় দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন বয়স্কদের জন্য মসজিদে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। কেউ অসুস্থ হলে মসজিদে আসা থেকে বিরত হওয়ায় ভালো। এছাড়া সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এবার মসজিদ কিংবা বয়স ভেদে কোনো নির্দেশনা নেই। আর এবার সংক্রমণটা যুবকদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া সবাই মসজিদে যেতে পারবে। মসজিদগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ