ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি । । এবার সম্পাদন হওয়া চাই

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন। আর সেই সফরেই তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক সমাধান মিলবে। এমনটিই আশা করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন সরকার। এই সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এসব প্রতিবেদন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে।
আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ওবায়দুল কাদের ভারতীয় হাইকমিশনারের ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পার্টি টু পার্টি, পিপল টু পিপল-এর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করব।’ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভাল এবং মর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু সম্পর্ক একটি চলমান বিষয়। উভয় দেশের সম্পর্ক জনগণের কাছে দৃশ্যমান করে তুলে ধরাই হবে বন্ধুত্বের প্রকৃত ধারণা। সমস্যা সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টার মধ্যেই সম্পর্কের ভিত রচিত হবে কিন্তু তা যদি ব্যাহতই হতে থাকে সে ক্ষেত্রে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটি সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠবে- তাতে সন্দেহ নেই। ভারতের সাথে অমীমাংসিত বেশ কয়েকটি বিষয়ের সুষ্ঠু মীমাংসা হয়েছে। এতে করে উভয় দেশই তার ফল ভোগ করছে। সীমান্ত চুক্তি ও ছিটমহল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে অবিশ্বাস, সন্দেহের দেয়াল ভেঙে গেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর অংশিদারিত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনাও এখন খুবই উজ্জ্বল। উভয় দেশ এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে ব্যর্থ হলে ভূ-রাজনৈতিক কারণেই উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উভয় দেশের সমস্যাগুলো এখন দুদেশের জনগণের অজানা কিছু নয়। বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে সেই উদারতা নিয়েই ভারতের সাথে অনেকগুলিই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। তুলনা বিচারে ভারতই বেশি লাভবান হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে আরো একটি বড় এবং বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। ২০১২ সালে কংগ্রেস সরকারের সময় তিস্তা চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতার কারণে তা হয়নি। ইতোমধ্যেই চারবছর পার হয়ে গেছে কিন্তু বিষয়টির সুরাহা হয়নি। বর্তমান মোদি সরকার বিষয়টি নিষ্পত্তির ব্যাপারে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে।
উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর এখনই সময়। সময়ের কাজ সময়ে না হলে বিড়ম্বনাই বাড়ে। আগামী ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্য দিয়েই তিস্তা চুক্তির নিশ্চিতভাবে সম্পাদন হবেÑ এটাই প্রত্যাশা। বাংলাদেশ-ভারত হাতে হাত রেখে চলবে, এ প্রত্যয় উভয়কেই সংরক্ষণে উভয় দেশকেই উদ্যোগী থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ