টাকার অভাবে থমকে গেছে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ

আপডেট: মে ১৬, ২০২২, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


পর্যাপ্ত অর্থ ছাড় না হওয়ায় রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ থমকে গেছে। কাজ করে টাকা না পাওয়া এবং নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ঠিকাদাররা। এখন কাজটি পুরোপুরি শেষ না হলে আসছে ভরা মৌসুমে নদী ভাঙনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্প’ এর আওতায় এলাকাটিতে কাজ চলছে। এই প্রকল্পে মোট ১৯টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এরমধ্যে ১০টি প্যাকেজে ১০ জন ঠিকাদার চারঘাটের রাউথা থেকে পদ্মার ভাটিতে বাঘা উপজেলার গোকুলপুর পর্যন্ত ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার তীররক্ষার কাজ পেয়েছেন। একজন ঠিকাদার পুরনো বাঁধ সংস্কারের কাজ পেয়েছেন। আর অন্য আটজন পেয়েছেন ১২ কিলোমিটার নদী খননের কাজ।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭২২ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। নদী খনন ছাড়া অন্য কাজগুলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা শুরু করেছেন। তীররক্ষার কাজ পাওয়া ১০ ঠিকাদার ইতোমধ্যে ১১০ কোটি টাকার কাজ করেছেন।

কিন্তু তাঁরা বিল পেয়েছেন মাত্র ২২ কোটি টাকা। অর্থ ছাড় না হওয়ায় পাউবো ঠিকাদারদের টাকা দিতে পারছে না। আর অর্থ সংকটে ঠিকাদাররাও কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না। ১০ জনের মধ্যে চারজন বলতে গেলে কাজ বন্ধই রেখেছেন।

এ অবস্থায় দুই উপজেলার কয়েকটি গ্রামজুড়ে নদীভাঙনের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পাউবোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, পাউবোর রাজশাহী পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সারওয়ার-ই-জাহান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব রাসেল ও সুখেশ কুমারসহ সংশ্লিষ্টরা।

বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, ‘শুনেছি টাকা না পাওয়ার কারণে ঠিকাদারেরা কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না। এতে নদীপাড়ের বিস্তির্ণ এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘বাঘা-চারঘাট রক্ষার জন্য আমরা মানববন্ধন করেছি, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছি। অবশেষে প্রকল্পটি পাস হয়। কিন্তু টাকার জন্য কাজ থমকে থাকা দুঃখজনক। এখনও দাবি জানাচ্ছি, দ্রুতই যেন অর্থ ছাড় দিয়ে বাঘা ও চারঘাটকে ভাঙন থেকে রক্ষা করা হয়।’

প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মোট ৭২২ কোটি টাকার কাজের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তিতে ২২ কোটি টাকা ঠিকাদাররা পেয়েছেন। চতুর্থ কিস্তিতে আরও ১৭ কোটি টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু কাজের অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশ।

ঠিকাদাররা নিজেদের টাকায় কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এখন টাকা না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন। আরও অর্থ যেন ছাড় করা হয় তার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে লিখেছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা আরও বেকায়দায় পড়েছেন। তাঁরা বর্তমান দামের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য আপীল করেছেন। কিন্তু সরকার নতুন কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ