টাঙ্গাইলে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা এই বর্বরতার অবসান কবে?

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

দেশে সড়কে মনুষ্য-প্রাণ ঝরার ভয়াবহতার সাথে আরো এক ভয়াবহ ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে যা অত্যন্ত পৈশাচিক এবং দেশবাসীর জন্য লজ্জারও। এ ধরনের ঘটনায় মাথা নিচু হয়ে আসে। বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় পশ্চাদপদ অসভ্য বর্বর যুগের কথা। কিছু মানুষ এমন সব কাজ করে যা পশুর নামে দোষারোপ করলে পশুরও অপমান হয়।
টাঙ্গাইলে এক ভয়াবহ ডাকাতি এবং একই সাথে এক নারী যাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এই ঘটনা সারা দেশ জুড়েই আলোচনার বিষয় হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ২৪-২৫ জন যাত্রী নিয়ে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে ঢাকার দিকে রওনা দেয়। সেদিন দিনগত রাতে সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে সেখান থেকে কয়েকজন ডাকাত যাত্রী সেজে বাসটিতে উঠে পড়েন। এরপর বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর ডাকাতরা বাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরপর বাসে থাকা সব যাত্রীর হাত, পা ও চোখ বেঁধে মারধর ও লুটপাট করে। সে সময় বাসের ভেতরেই এক নারী যাত্রীকে ডাকাতরা পালাক্রমেধর্ষণ করে এবং বুধবার (৩ আগস্ট) ভোরের দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় সড়কের পাশে বালির ডিবির মধ্যে বাসটি থামিয়ে পালিয়ে যায়।
অবশ্য এই ঘটনার পর দ্রুততার সাথে পুলিশ ডাকাতি ও ধর্ষণের মূলহোতা বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়া ডাকাত চালকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদ তথ্যমতে, আড়াইঘণ্টা ধরে ডাকাতি ও ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটলেও হাইওয়ে পুলিশের টঞল ছিল না এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
সড়কে এ ধরনের বর্বর ঘটনা এর আগেও বার কয়েক ঘটেছে। কিন্তু ঘটনা প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ আছে বলে মনে হয় না। এই বর্বরতার অবসান হবে, তেমন কোনো উদ্যোগও দেখা যায় না। রাতে মাঝপথে যাত্রিবেশি ডাকাতরা বাসে উঠে ডাকাতির ঘটনা নতুন কিছু নয়। এসব ঘটনার সাথে বাসের চালক ও কর্মচারিদের যোগসাজসের বিষয়াটও সামনে এসেছে। তার পরেও রাত্রিতে যাত্রি তোলা বন্ধ হয়নি। টাঙ্গাইলের ঘটনার পর আবারও প্রশ্নটি নতুন করে এসেছে- রাত্রে বাসে যাত্রি তোলা বন্ধ করতে হবে। একই সাথে বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। এসব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। সেই সাথে হাইওয়ে পুলিশের কাজে অধিক সমন্বয় এবং তাদের কাজের উন্নত মনিটরিং ব্যবস্থা থাকাও উচিৎ হবে।
ঈগল বাসের চালক, সুপারভাইজার, হেলপারদের কেউ এই ঘটনার সাথে কোনো যোগসাজস আছে কী না সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনাকে অনাকাক্সিক্ষত বলেই দায় সারা যাবে না। এমন ঘটনা বন্ধ করতেই হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ