টানা তৃতীয়বার দেশ সেরা রাজশাহী বোর্ড

আপডেট: মে ৫, ২০১৭, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ফল প্রকাশের পর পিএন সরকারি বালিকাউচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা- সোনার দেশ

টানা তৃতীয়বারের মত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশ সেরা হয়েছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। তবে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই পাশের হার সবচেয়ে কম। এছাড়া গত বছরের চেয়ে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, এবার পাশের হার ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ। গতবছর তা ছিলো ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর আগে পাশের হার ছিলো ২০১৩ সালে ৯৪ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৯৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তরুণ কুমার সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বোর্ডের সচিব ড. আনারুল হক প্রামানিক, কলেজ পরিদর্শক আকবর হোসেন, প্রধান মূল্যায়ন কর্মকর্তা গোলাম আজম, সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা এএফএম খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, এবার বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলো এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৯০ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে এক লাখ ৫১ হাজার ৪০৬ জন। অনুপস্থিত ছিলো ৬৫২ জন পরীক্ষার্থী। এবছর ৯১ দশমিক ৪৪ শতাংশ মেয়ে এবং ৯০ দশমিক ০১ শতাংশ ছেলে পাশ করেছে। এবছর মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ২৭৪ জন মেয়ে এবং ৯ হাজার ৭৫ জন ছেলে।
গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিলো মোট ১৭ হাজার ৫৯৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৮ হাজার ১৮৯ জন মেয়ে এবং ৯ হাজার ৪০৫ জন ছেলে। এর আগে ২০১৫ সালে ১৫ হাজার ৮৭৩ জন এবং ২০১৪ সালে ১৯ হাজার ৮১৫ জন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।
এদিকে অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় বাড়লেও গত চার বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাশের বিদ্যালয় নেমেছে অর্ধেকে। এ বছর রাজশাহী বোর্ডে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে এমন বিদ্যালয় রয়েছে ৪২৯টি। গত বছর তা ছিলো ৮০০টি। এর আগে ২০১৫ সালে ৯৬৯টি এবং ২০১৪ সালে এক হাজার ৫৫টি বিদ্যালয় থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। এবছর বিদ্যালয় সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৬৩২টি। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৫৪২।
বোর্ডে এবছর একমাত্র আলাতুলি উচ্চবিদ্যালয় থেকে কোন পরীক্ষার্থী পাশ করেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের এ বিদ্যালয় থেকে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবারের পরীক্ষায় বহিস্কৃত হয়েছে ১৩ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গায় দুইজন, নওগাঁর পত্নিতলায় চারজন, পাবনার আটঘরিয়া ও সাঁথিয়ায় দুইজন, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় তিনজন এবং বগুড়ার শিবগঞ্জে দুইজন। এববছর কারাগার থেকে তিন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের একজন পাশ করেছে। একজন অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যজনের ফলাফল রয়েছে স্থগিত। এবছর প্রতিবন্ধি পরীক্ষার্থী ছিলো ১৭ জন। এদের ৩ জনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। বাকিরা পাশ করেছে বিভিন্ন গ্রেডে।
ফলাফল সার্বিকভাবে ভালো হয়েছে দাবি করে সন্তোষ প্রকাশ করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তরুণ কুমার সরকার। তিনি বলেন, ফলাফল খারাপ হয়েছে বলার সুযোগ নেই। ব্যবধান যেটা সামান্য, ব্যাপক নয়। অনুপস্থিতি, বহিস্কার, এমনটি শূন্য পাশ বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমছে। এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন থাকবে কী না- তা আমরা সরেজমিন তদন্ত করে দেখবো। পরে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেবো। মন্ত্রণালয় তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরো বলেন, এবার অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশের কম শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য হয়েছে গণিতে, প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি। এছাড়া বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়েও অকৃতকার্য হয়েছে শিক্ষার্থীরা।