টানা বৃষ্টিতে ছোট-বড় হাজারো গর্তে ভরে গেছে মহাসড়ক ভোগান্তিতে পথচারীরা

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


টানা বৃষ্টিতে ছোট-বড় হাজারো গর্তে ভরা নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া বাইপাস মোড়-সোনার দেশ

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের নাটোর থেকে বনপাড়া বাইপাস মোড় পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার মহাসড়ক ছোট-বড় হাজারো গর্তে ভরে গেছে। অথচ মাত্র এক বছর আগে এই সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল। নি¤্নমানের কাজের সঙ্গে বৃষ্টির বাগড়া যুক্ত হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
সরেজমিন গতকাল বুধবার দেখা গেছে, বনপাড়া বাইপাসের গোলচত্বর গোটা অংশে কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে কারবালা থেকে আহম্মেদপুর ও আহম্মেদপুর বড় ব্রিজ থেকে হয়বতপুর পর্যন্ত। এছাড়া নাটোর থেকে বনপাড়া বাইপাস পর্যন্ত গোটা সড়কেই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কে গর্তের ফলে বেড়েছে পথচারীদের দুর্ভোগ। এই অংশে চলাচল করতে গেলে সুস্থ্য মানুষগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই পথে চলাচলকারী সিএজি চালিত অটোরিক্সা, হিউম্যানহলারের সংখ্যা কমেছে। আবার তারা যাত্রী প্রতি ভাড়াও বাড়িয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। পণ্য পরিবহনে ট্রাকগুলো ৫শ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া বেশি নিচ্ছে। আর সময়ের অপচয়তো হচ্ছেই।
নাটোরের জজকোর্টের আইন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মোকলেছুর রহমানের বাড়ি বনপাড়া পৌরসভার মহিষভাঙ্গা এলাকায়। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে মোটরসাইকেল না নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা বা লোকাল বাসে করে যাতায়াত করতাম। আগে বনপাড়া থেকে নাটোর যেতে সময় লাগতো ৩০ মিনিটি। সেখানে এখন ৫৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। আবার ভাড়াও ২০ টাকার কাছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
কারবালা এলাকার সিএনজি অটোরিক্সা চালক বাবুল হোসেন বলেন, সড়ক খারাপ হওয়ায় সময় এবং সিএনজি দুটোই বেশি লাগে। তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে।
বনপাড়ার ট্রাক চালক ইউনুস আলী বলেন, সড়কে গর্ত হওয়ায় সময় বেশি লাগে আবার ইঞ্জিেিনর ক্ষতির সম্ভাবনাও বেশি থাকে। তাই ভাড়া বেড়েছে।
বনপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী ঈমান আলী বলেন, সড়কের ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি বেড়েছে। তিনি বলেন, ঠিকাদারেরা সড়ক নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় বিটুমিন কম দেওয়ায় দ্রুত সড়কের ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সজাগ হলেই দেশ-জাতী উভয়েরই মঙ্গল হবে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, বর্ষাকালে সারা দেশেই বিটুমিন সড়কের ক্ষতি হয়। আমাদের সড়কটিও তার ব্যতিক্রম নয়।