টিকা উৎপাদনে তিন কোম্পানি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হোক

আপডেট: মে ৯, ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

৫ মে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা সংগ্রহ বিতরণ বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রালয় সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সভায় দেশে করোনার টিকা উৎপাদনের জন্য তিনটি ওষুধ কোম্পানির সক্ষমতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরদিনই ৬ মে টিকা বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে তাদের প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
পরামর্শক কমিটি কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিনের চাহিদা যাচাই, নিরাপদ ও কার্যকর টিকা নির্বাচন, টিকা সংগ্রহ, বিতরণ ও টিকার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করবে।
কোম্পানি তিনটি হচ্ছে- ইনসেপটা, পপুলার এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি। এই তিন কোম্পানিগুলো টিকা তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে কেবল। টিকা উৎপাদনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়নি।
এই সংবাদ দেশের মানুষের জন্য আশা জাগানিয়া। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে সেটাই প্রশ্ন। প্রক্রিয়া যদি সঠিক ও দ্রুততার সাথে না এগোয় তা হলে আশাহতই হতে হবে দেশের মানুষকে। নিশ্চয় সরকার সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করছে। তবে সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের সাফল্যই চলমান উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রশমন হতে পারে।
দেশে করোনা সংক্রমণ ঝোঁক একটু নিম্নগামী হয়েছে। এটা যে মোটেও স্বস্তির কিছু নয় তা করোনা চরিত্র-বৈশিষ্ট থেকেই অনুমান করা যায়। দেশে করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে উচ্চারিত হলেও সেটা খুব গুরুত্ব পায়নি নীতি-নির্ধারক মহলে। করোনর প্রথম ঢেউ কিছুটা থেতিয়ে আসলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও অনেকটা গুরুত্বহীন হয়ে ওঠে। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটাই প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে মারাত্মক হয়ে সংক্রমিত করতে থাকে। এখন বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে বলা হচ্ছে তৃতীয় ঢেউ আসাটাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এই ঝুঁকি শুধু বাংল াদেশ নয় সারা বিশ্বের জন্যও প্রযোজ্য।
এদিকে ভারতের করোনা সংক্রমণের ধরণ বিশ্বকেই ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতে সেটা সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রতিদিন করোনায় মৃত্যুর নতুন নতুন বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। ইতোমথ্যে বাংলাদেশ ভারতের করোনা ধরন ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি অত্যস্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। কেননা টিকার সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে যা জরুরিভাবেই প্রয়োজন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত টিকার বন্দোবস্ত করাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ। চিন এবং রাশিয়া বাংলাদেশে টিকা বিক্রি এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করার উভয় প্রস্তাবই দিয়েছে। বাংলাদেশ সে দিকেই যাচ্ছে। এখন এই বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া উচিৎ হবে এবং তিনটি ওষুধ কোম্পানির সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়টি যেন বিলম্বিত প্রক্রিয়ার মুখে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ