টিপটিপ বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ || বেকায়দায় শ্রমজীবী মানুষ

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীতে পৌষের শেষে এসে তীব্র শীত পড়েছে। প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমছে। এর সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে টিপ টিপ বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। এছাড়া এই বৃষ্টি এই অঞ্চলের আলু ও মসুরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদফতর।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৪টা থেকে থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল দুই দশমিক দুই মিলিমিটার। তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবছরে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল গত রোববার। ওইদিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণে সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এর সঙ্গে যুক্ত শৈত্য প্রবাহের কারণে ঠা-ায় জড়সড় অবস্থা মানুষের। নগরীর রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা। বিকিকিনি হয়নি বললেই চলে বিপণীবিতানগুলোতে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়ে শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় তারা।
নগরীর রেলগেট এলাকায় প্রায় প্রতিদিন শতাধিক মানুষ দিনমজুর হিসেবে কাজ করার জন্য ভোরে এসে জমায়েত হয়। তাদের সঙ্গে থাকে একটি ডালি ও কোদাল। তারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে। এমন একজন শ্রমিক ইয়াকুব আলী (৫০)। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে কোনো কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে।’
ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক তমিজউদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। রিকশায় উঠার মতো লোকজনই ঘরের বাইরে বের হয়নি। টাকার দরকার তাই ভাবলাম ভিজে হলেও ভাড়া খাটতে পারব। উপায় নেই, ঘরে বসে থাকলে তো পেটে ভাত জুটবে না।
শীত বেশি পড়ায় গরম কাপড়চোপড় কিনতে বাজারে এসেছেন শিরোইল কলোনির হাফিজা খাতুন। তিনি বলেন, কম টাকায় কাপড়চোপড় কেনার জন্য এসেছি। ফুটপাতে সব দোকান না বসার কারণে কাপড়ের দাম বেশি চাইছে। এজন্য ইচ্ছা থাকলেও বেশি দামের জন্য কাপড় কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কে জে এম আবদুল আউয়াল বলেন, এই বৃষ্টিতে আলু ও মসুরের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে আলুতে ‘লেফট ব্লাইট’ ও মসুরে ‘স্টেম ফাইলিয়াম’ রোগ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এইজন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে। তাদের বলা হয়েছে বৃষ্টি ছেড়ে যাবার পর আলু ও মসুরে ছত্রাকনাশক কীটনাশক স্প্রে করার জন্য। এছাড়া গম, ভুট্টা, আখ, পিঁয়াজ, ধানের চারাসহ অন্যান্য ফসলের জন্য উপকার হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ