টিসিবিতে স্বস্তি ফিরেছে রাণীনগরের খেটে-খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


দেশব্যাপী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২য় কিস্তিতে রাণীনগর উপজেলার ১০ হাজার ৭৪০টি পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে স্বস্তি ফিরেছে খেটে-খাওয়া নিম্ম আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে। তবে এই টিসিবি পন্য ধারাবাহিকভাবে মাসে একবার নয় একাধিকবার প্রদান করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সুবিধাভোগীরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ২য় কিস্তিতে নায্য মূল্যে টিসিবির পন্য বিক্রি কার্যক্রম চলছে। টিসিবির আওতায় সরকার অনুমোদিত ৪জন ডিলারের মাধ্যমে সঠিক তদারকিতে উপজেলার ১০হাজার ৭৪০টি কার্ডধারী পরিবার ৪০৫টাকার প্যাকেজে ২লিটার সয়াবিন তেল, ২কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি পাচ্ছেন। বর্তমানে মেসার্স সবুজ ভ্যারাইটি স্টোরের মালিক ডিলার প্রসেনজিৎ সরকারের মাধ্যমে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৫৬টি ও মিরাট ইউনিয়নের ১হাজার ২৩৬টি পরিবার, মেসার্স আব্দুর রাজ্জাক এন্ড সন্স এর মালিক ডিলার মোল্লা মো. আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে গোনা ইউনিয়নের ১ হাজার ৩১১টি ও কালিগ্রাম ইউনিয়নের ১হাজার ৩৩৪টি পরিবার, মেসার্স সরকার ট্রেডার্সের মালিক ডিলার নিরঞ্জন সরকারের মাধ্যমে খ: রাণীনগর ইউনিয়নের ১ হাজার ৫১৯টি ও একডালা ইউনিয়নের ১হাজার ৩২৫টি পরিবার এবং মেসার্স দেবনাথ স্টোরের মালিক ডিলার দেবব্রত দেবনাথের মাধ্যমে কাশিমপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৩৭জন ও বড়গাছা ইউনিয়নের ১ হাজার ৩২২টি পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছেন।

উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের ভ্যানচালক আখের উদ্দিন বলেন, দিন দিন সবকিছুর দাম বাড়লেও আমার আয় বাড়েনি। দিনশেষে যেটুকু অর্থ আয় হয় তা দিয়ে তেল, চাল কিনে অন্যান্য পণ্য কিনতে চরম হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘলাইনে দাড়িয়ে এই পন্য নিতে কষ্ট হলেও সরকারের দেওয়া এই টিসিবির পন্য আমার মতো লাখ লাখ দিনমজুরের জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তাই ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীকে।
গহেলাপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, বর্তমান ব্যয়বহুল জীবন-যাপনের মাঝে সরকারের এই টিসিবি কার্যক্রম আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষদের জন্য খুবই সহায়ক ভূমিকা রাখছে। কিন্তু মাসে একবার না দিয়ে যদি একাধিকবার এই টিসিবি পন্যগুলো পাওয়া যেতো তাহলে অন্তত তেল, ডাল আর চিনির আগুন থেকে আমরা কিছুটা রক্ষা পেতাম। এই বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিতে সরকার প্রধানের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ডিলার মোল্লা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সঠিক পন্থায় টিসিবি পন্য বিক্রি করে আসছি। যদি কখনোও বিতরনকালে পন্য বেঁচে যায় সে ক্ষেত্রে ইউএনও স্যার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মোতাবেক পণ্যগুলো অন্য মানুষদের মাঝে নতায্যমূল্যে বিতরণ করা হয়। তবে এই টিসিবির পণ্য এলাকার খেটে খাওয়া নিম্ম আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষদের মাঝে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এনেছে। তবে মাসে যদি একাধিকবার এই পণ্যগুলো দেওয়া যেতো তাহলে সুবিধাভোগীরা আরো অনেক বেশি উপকৃত হতো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, নিম্ম আয়ের মানুষদের মাঝে সরকারের সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির মাধ্যমে এই পন্য বিক্রির কার্যক্রম সত্যিই এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে কার্ডধারী পরিবারের মাঝে এই পন্য বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবির পন্য যাতে কোন ভাবেই কালোবাজারে বিক্রি করা না হয় এবং ওজনে কম দেওয়া না হয় সেই বিষয়ে প্রত্যক ট্যাগ অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যান, ডিলারসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিদের কঠোর ভাবে নির্দেশা প্রদান করা হয়েছে। যদি কারো বিরুদ্ধে টিসিবি পন্য বিক্রির বিষয়ে কোন প্রকারের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তা তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।