টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফির অবসর

আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



টি-টোয়েন্টি থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজা অবসর নিচ্ছেন, এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কয়েক বছর ধরে। অবশেষে মাশরাফি নিজেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রথম টি-টোয়েন্টির টস হওয়ার দশ মিনিট আগে নিজের ফেসবুক  পেজে টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। টস করতে নেমে নিজের মুখে বললেন একই কথা। লঙ্কানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেই এই ফরম্যাট থেকে বিদায় নেবেন তিনি। মূলত তরুণদের সুযোগ করে দিতেই মাশরাফির এমন সিদ্বান্ত।
মাশরাফির অবসরের সিদ্ধান্ত ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান নিশ্চিত করেছেন। যদিও এ ব্যাপারে আর কিছু জানাতে চাননি তিনি।
মাশরাফি তার অফিসিয়াল পেজে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ টিমকে টি-টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান দলটি একটি ভালো দল এবং দলে কিছু উদীয়মান খেলোয়াড় আছে। আমার উপর আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে এত চমৎকার দলের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ। আমি আমার সকল ভক্ত, পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমাকে সবসময় সমর্থন করার জন্য। এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে উত্থান এবং পতন ছিল। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার ফ্যানদেরকে খুশি করার। আমি আমার প্রত্যেক ফ্যান এর কাছে তাদেরকে প্রতি ম্যাচে খুশি করতে না পারার জন্য ক্ষমা চাইছি। এই মুহূর্তে দল হিসেবে আমরা ভালো খেলছি। আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতেও ভাল ক্রিকেট খেলবে।’
তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ার জন্য এটাই আমার উপযুক্ত সময়, যাতে অনেক তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার তাদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে এবং বিসিবি তাদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। আমি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি টিম এর নতুন অধিনায়ককে আগাম অভিনন্দন জানাই এবং আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা সময় সামনে আসবে। শিগগিরই আবার দেখা হবে। সকলের জন্য আমার আন্তরিক ভালবাসা।’
গত বছর বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ, এরপর ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এমন গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। চলতি বছর নিউজিল্যান্ড সফরে মাশরাফির অবসর নিয়ে আরেক দফা গুঞ্জন উঠে। সেখানে মাশরাফি নাকি বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে জানিয়েছিলেন, তিনি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে যেতে চান। তবে এমন খবর মিডিয়ায় এলেও মাশরাফি নিজে সরাসরি কিছু বলেননি কখনও। মঙ্গলবার সব জল্পনারই অবসান হলো।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা প্রতিভা মাশরাফি। ৭টি অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে তিনি যেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলে যাচ্ছেন, সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়াই ভার!
বাংলাদেশের সফলতা-ব্যর্থতা দুটোরই ‘জ্বলন্ত সাক্ষী’ মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০১ সালে ওয়ানডে-টেস্ট দুটোতেই অভিষেক হয় তার। বোলার ও অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অসামান্য অবদান। গত আড়াই বছরে  বাংলাদেশের ক্রিকেট তার নেতৃত্বেই বদলে গেছে। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ১৬ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে খেলে চলা মাশরাফি ওয়ানডেতে ১৭২টি ম্যাচ খেলে ২২৫টি উইকেট নিয়েছেন। ৩৬ টেস্টে তার শিকার ৭৮টি উইকেট। অন্যদিকে আজকের আগে ৫২টি-টোয়েন্টি খেলে ৩৯টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। টেস্টে তার রান ৭৯৭, ওয়ানডেতে ১৫৫৬ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৩৬৮। আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে টাইগারদের উত্তরণ মাশরাফির অধিনায়কত্বে।  তার নেতৃত্বেই টাইগাররা নবম স্থান থেকে উঠে এসেছে সপ্তম স্থানে। মাঠের ভেতরে-বাইরে সব জায়গায় আদ্যন্ত নেতা মাশরাফি যেন পাল্টে দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চিত্র। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ এখন ওয়ানডেতে সমীহ জাগানো শক্তি!-বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ