‘টুকরো করে কাটা হয় সাংবাদিক খাশোগিকে, জড়িত সৌদি যুবরাজ’ আসছে মার্কিন রিপোর্ট

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২১, ২:৩২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ট্রাম্প সরকারের আমলে তুরস্কের রাজধানীতে সৌদি আরবের সাংবাদিকের খুনে জড়িত সৌদি যুবরাজ। তিনি বকলমে দেশটির শাসনকর্তা। এমনই ভিভিআইপির বিরুদ্ধে যে চাঞ্চল্যকর খুনের মামলা রয়েছে, সেটি ফাঁস করতে চায় মার্কিন সরকার।
মার্কিন মুলুকেরএই অবস্থান নিয়ে চরম দোলাচালে আরব মুলুক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সম্ভাব্য গোয়েন্দা প্রধান এভ্রিল হেইনেস বলেছেন, প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চান। নতুন প্রশাসনে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই এই কাজ করবেন বলে জানান।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতেই ইস্তাম্বুলের সৌদি দূকাবাসে প্রবেশ করেছিলেন খাশোগি।তাঁর নিখোঁজ রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরবের সরকার।
পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সৌদি আরবের সরকার জানায় দূতাবাসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তাদের ভুলে মৃত্যু সাংবাদিক জামাল খাশোগির। তবে তার মৃতদেহের কোনও সন্ধান মেলেনি। সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের নির্দেশেই তাকে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাগদত্তা। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে খাশোগিকে খুনের আদেশ দেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন সরকার ক্ষমতা নিলেন এই তদন্ত রিপোর্ট বের করা হবে। এর জন্য অনুমতি চেয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হেইনেস। অভিযোগ, তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে খাশোগির খুনের দায় থেকে সৌদি রাজপরিবারকে রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন ভূমিকা নিয়েছিল।
প্রশ্ন উঠছে, রিপোর্ট ফাঁস হলে অবধারিত বিপদের মুখে পড়তে চলেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ তথা আগামী বাদশাহ। তিনি আরব মুলুকের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সংস্কার শুরু করেছেন। গোঁড়া আইন থেকে মহিলাদের নিষ্কৃতি দিয়েছেন কিছুটা। এর জেরে জনপ্রিয়। আবার তার বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে একাধিক রাজ সদস্যকে খুনের অভিযোগ আছে।
খাশোগি খুনের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের নাম মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে থাকলেই সৌদি আরব ও আমেরিকার কূটনৈতিক সংঘাত বাধতে পারে। এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব তেল বাণিজ্য বাজার এতে প্রভাবিত হবে।
তথ্যসূত্র: kolkata24x7