টেকনাফ ও ঘুমধুমে আর ১২ রোহিঙ্গার লাশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত থেকে আরও ১২ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে পাঁচ শিশুসহ সাতজনের এবং ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা থেকে পাঁচ রোহিঙ্গার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে মোট ৭০ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হল বাংলাদেশে। এছাড়া আরও দুই রোহিঙ্গা নারী বুধবার অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইনউদ্দিন খান জানান, বুধবার সকালে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে  শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর পয়েন্ট থেকে পাঁচ শিশুর এবং বিকালে আরও এক নারী ও পুরুষের লাশ পাওয়া যায়।
“লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় তা উদ্ধার করে।”
শিশুদের বয়স আনুমানিক ৭/৮ বছর বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো নৌকাডুবির ঘটনায় এই রোহিঙ্গা শিশুদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
লাশগুলো টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় রাখা হয়েছে এবং সেখানেই দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
বিজিবি কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান জানান, বুধবার বিকালে ঘুমধুমে সীমান্তের এপাড় থেকে গুলিবিদ্ধ পাঁচ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
“যারা মিয়ানমার সীমান্তের ওপাড়ে গুলিতে মারা যাওয়ার পর স্বজনরা দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য এপাড়ে নিয়ে এসেছেন।”
তবে তাৎক্ষণিকভাবে এদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার একজন, রোববার পাঁচজন, শনিবার তিনজন, গত শুক্রবার ২৬ জন, বৃহস্পতিবার ১৯ জন এবং বুধবার চার রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বুধবার ভোরের দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় অসুস্থ হয়ে দুই রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যু হয় বলে ওসি মাইনউদ্দিন খান জানান।
তিনি বলেন, “গত ২ দিনে আগে অনুপ্রবেশকারী কিছু রোহিঙ্গা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে দুই রোহিঙ্গা নারী অসুস্থ হয়ে মারা যান।”
তাদের এক জনের বয়স ৮০ বছরের বেশি। অপরজনের বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। তবে কোন ধরনের অসুস্থতায় তাদের মৃত্যু হয়েছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
গত ২৪ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল শুরু হয়।
কক্সবাজার ও বান্দরবানে নাফ নদী পেরিয়ে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেওয়া অসহায় রোহিঙ্গাদের দিকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে।
জাতিসংঘের হিসাবে এ পর্যন্ত সোয়া এক লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বলে সীমান্তবাসীর ধারণা। তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ