টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরএমপি বদ্ধপরিকর : পুলিশ কমিশনার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা বিষয়ক এক সভায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক বলেছেন, নৈতিকতা, সততা ও আচরণগত মানদ- ঠিক রেখে প্রত্যেককে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে স্ব-স্ব কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। আর শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা হলে তার মাধ্যমেই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ বদ্ধপরিকর।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে আরএমপি’র স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার এই কথা বলেন।

পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় আরএমপি আপসহীন ছিল, আপসহীন থাকবে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজাম-পে নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক বলেন- ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় ৯৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পূজাম-পে কঠোর নিরাপত্তা বলয়সহ সিসি টিভি ক্যামেরার পাশাপাশি হট লাইন সংবলিত ব্যানার থাকবে। যে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবেলায় আরএমপি সচেষ্ট থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রাজশাহীতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আনন্দঘন পরিবেশে এবং নির্বিঘে শারদীয় দুর্গোৎসব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সাথে আসন্ন দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে ‘আরএমপি’ উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, আরএমপির প্রতিষ্ঠার পর চুরি, ছিনতাই, মাদক বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অপরাধ নিন্মমুখি হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় সংঘর্ষ, কিশোর অপরাধ এবং ইভটিজিং প্রায় নাই বললেই চলে। যা কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। আরএমপি সদস্যরা কোভিড-১৯ সংকটে অক্সিজেন ব্যাংক তৈরি করে বাড়ি বাড়ি অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দিয়েছে। যা রাজশাহীবাসীকে উদ্বেলিত করেছে। উজ্জ্বল করেছে পুলিশের ভাবমূর্তি।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা ও অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীতে অপরাধ প্রবণতা কমাতে নগরজুড়ে ৫০০ ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপণ করা হয়েছে। সাইবার ইউনিটের সাহায্যে গত এক বছরে বিভিন্ন ধরনের প্রমাণহীন তিন শতাধিক অপরাধের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যাকান্ড রয়েছে। এছাড়াও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ, ২০২১ রূপকল্প এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রণীত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আরএমপি’তে চারটি ক্রাইম বিভাগ স্থাপন করা হয়েছে।

আরএমপি কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক আরও বলেন, দুর্নীতির রাহুগ্রাস রাষ্ট্রের প্রাণশক্তিকে নিঃশেষ করছে। দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় হচ্ছে, বণ্টনে অসমতা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এজন্য জনসচেতনতা অপরিহার্য। পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হতে হবে।

এসময় পুলিশ কমিশনার স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় করেন। সভায় উপস্থিত স্টেকহোল্ডারা (অংশীজন) বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তি আরও কিভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বিজয় বসাক, রাজশাহী পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক সামসুন নাহার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

এছাড়াও ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), সভাপতি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদসহ বিভিন্ন কার্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ