টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট্য অর্জনে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান রাজশাহীতে বেইজলাইন সার্ভের প্রতিবেদন অবহিতকরণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২১, ২:৩০ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :


পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বেসরকারি সংগঠন ওয়েভ ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে বেইজ লাইন সার্ভের প্রতিবেদন অবহিতকরণ ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর নানকিং দরবার হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তানজিমা জোহ্রা হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাসিনা মমতাজ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শবনম শিরিন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এটিএম গোলাম মাহবুব, দৈনিক সোনার দেশ সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, দৈনিক সোনালী সংবাদ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে নির্বাহী সদস্য রাশেদ রিপন, বরেন্দ্র উন্নযন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, রাজশাহী জেলা লোকমোর্চা সভাপতি জামাত খান, সুশাসন বিশ্লেষক সুব্রত কুমার পালসহ আরো অনেকে।

প্রধান অতিথি রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরো তার বক্তব্যে বলেন কাউকে বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট্য অর্জনে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এই বিষয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। বেসরকারি সংগঠনগুলোকেও কার্যক্রর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ক্রিশ্চিয়ান এইড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন সহ বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, নাগরিক উদ্যোগ ও বøাস্ট সাড়ে তিনবছর মেয়াদি এক কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের তিনটি বিভাগের ৮ টি জেলার ৭৩টি উপজেলাতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে তাদের অধিকার বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে ইউনিয়ন ও উপজেলা জেলা থেকে প্রাপ্ত সেবাসমূহে তাদের অভিগম্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদেরকে মূল ধারায় যুক্ত পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব তৈরি করার জন্য সিএসও ও সিবিওগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি ও লবিং করা, উঠান বৈঠক, রেডিও ক্যাম্পেইন, পথ নাটক প্রদর্শন, চেম্বার অফ কমার্সের সাথে

লবিং করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং আইনি সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাধ্যমে সরাসরি ৬ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ১৮লক্ষ মানুষকে যুক্ত করা হবে বলে জানান।
সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ওয়েভ ইমলএমসি’র প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর শামসুর রহমান এবং কর্মসূচির ফোকাল পারসন নির্মল দাস সেমিনারে প্রকল্প পরিচিতি ও বেইজলাইন সার্ভে বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অফিসার নাজমুল হোসেন।

আয়োজক সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন জানান, প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কর্ম এলাকার ৮টি জেলাতে বেইজলাইন ও পারসেপশন সার্ভে পরিচালনা করাহয়। সেখানে দেখা গেছে যে শুধুমাত্র জাতি, ধর্ম ও গোত্র ও লিঙ্গভিত্তিক পরিচয়ের কারণে ৩৯% মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা পাবার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। এছাড়াও ৭৯% ট্রান্সজেন্ডার বলেছেন তারা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। বেইজলাইন সার্ভের তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন শেষে বিদ্যমান সকল প্রকার বৈষম্য ও নারীর প্রতি সহিংসতা-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে বছরব্যাপী প্রচারিভাযেন উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় এই সেমিনারে।