টেস্টেও নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চান সাব্বির

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
টি-টোয়েন্টিতে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই জাতীয় দলে সুযোগ হয়েছিল রাজশাহীর ছেলে সাব্বির রহমান রুম্মনের। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এশিয়া কাপের আগে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। বছরের শেষ প্রান্তে এসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকও হয়ে যায় রুম্মনের। বিস্ফোরক ব্যাটিং করতে পারায় তার গায়ে তকমা লেগে যায় টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞের। সেই তকমা ছাড়িয়ে এখন তিনি ওয়ানডেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিন নম্বর জায়গাটা পাকাপোক্ত ভাবেই দখল করেছেন এই ব্যাটসম্যান। তাই গত কিছুদিন ধরেই সাব্বিরকে টেস্টে সুযোগ দেওয়ার আবেদন উঠছিল।

3rd lead
যার ফল স্বরূপ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের স্কোয়াডে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আর স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েই রোমাঞ্চিত সাব্বির। সে হিসেবে মূল একাদশে সুযোগ পেলে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ হবে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন তিনি। অবশ্য সাব্বিরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পারফরম্যান্সও খারাপ নয়।

 

৩৫টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে ৩৪.৭১ গড়ে তার সংগ্রহ ১৮৪০ রান। এছাড়া হাল্কা হাতও ঘুড়াতে পারেন তিনি। এইতো শনিবার প্রস্তুতি ম্যাচে ইংলিশদের পড়ে যাওয়া তিনটি উইকেটের সবগুলোই নিয়েছেন সাব্বির। শুধু তাই নয় ব্যাট হাতেও নিয়েছেন ৩০ রান। সবমিলিয়ে টেস্টের জন্য প্রস্তুতিটা ভালো ভাবেই সেরে রাখলেন বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান।
রবিবার দল ঘোষণার পর বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন প্রথমবার টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া সাব্বির রহমান রুম্মন। তারই চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
বাংলা ট্রিবিউন: সাদা পোশাকে সুযোগ, এই মুহূর্তে কেমন অনূভূতি?
সাব্বির: স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলবো। স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়াটা হয়তো টেস্ট খেলার প্রথম ধাপ। সত্যিই আমি খুব রোমাঞ্চিত। এই সুযোগ আমার ভাবনারও বাইরে। ভাবিনি এতো তাড়াতাড়ি সুযোগ আসবে। আমি অবশ্য সব সময়ের জন্য তৈরিই ছিলাম।
বাংলা ট্রিবিউন: এখনতো নিশ্চয়ই আপনার দেখা এই স্বপ্নটা কাছাকাছি..?
সাব্বির : এটা আমার জন্য অনেক বড় একটি অর্জন। জানি না সুযোগ পাবো কিনা। তারপরও এতোটুকু সুযোগও অনেক বড় অর্জন মনে করি। রাজশাহী থেকে শুরু, এখন জাতীয় দলে খেলছি। জাতীয় দলের হয়ে রঙিন জার্সি গায়ে জড়িয়েছি। বাকি ছিল টেস্ট জার্সিটা জড়ানোর। এই স্বপ্নটা যদি পূরণ হয়, আমার চেয়ে আনন্দিত আর কেউ হবে না। সাদা পোষাকে ষোলোকোটি মানুষের হয়ে আমি একজন প্রতিনিধিত্ব করবো এটা ভাবতেই আমি গর্ববোধ করি। সত্যি কথা বলতে এমন সুযোগ আমাকে আরও ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করবে।

 
বাংলা ট্রিবিউন : খবরটা প্রথম কার কাছ থেকে পেলেন?
সাব্বির : মাত্রই সুজন ভাইয়ের কাছ থেকে শুনলাম। মা-বাবাকে এখনো ফোন দেওয়া হয়নি। তারা অনেক খুশি হবেন খবরটা পেয়ে। হয়তো এতোক্ষণে পেয়েও গেছেন। আমার জন্য যারা পরিশ্রম করেছে, যাদের অবদানে আমি এতোদূর এসেছি; আমি নিশ্চিত তারা আমার এই অর্জনে অনেক অনেক খুশি হবে।
বাংলা ট্রিবিউন : টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ নিশ্চয়ই থাকবে?
সাব্বির: যারা আমাকে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট বলতো, তারা কিন্তু এখন ওয়ানডে স্পেশালিস্টও বলে। আমি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিয়েছি। ওখান থেকে আবার টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছি। এখন এটাও আমার জন্য চ্যালেঞ্জের। আমি জানি এটাও আমাকে প্রমাণ করতে হবে, আমি টেস্ট খেলতে পারি। শেবাগ যদি টেস্ট খেলতে পারে, আমি কেনও খেলতে পারবো না! এটা আমার জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ। যেখানে সফল হওয়ার চেষ্টা করবো।

 
বাংলা ট্রিবিউন : দুটি ফরম্যাটেই তিন নম্বরে ব্যাটিং করেন; টেস্টে নিজের পছন্দ জানাবেন কিনা?
সাব্বির : জাতীয় দলে যখন সুযোগ পেয়েছি, তখন আমার কোনও পছন্দ ছিল না। দলের প্রয়োজনে আমাকে যেখানে খেলতে বলা হয়েছে আমি সেখানেই খেলেছি। আস্তে আস্তে নিচ থেকে উপরে উঠেছি। আমি মনি করি না, ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ভয়ের কিছু আছে। যেখানেই খেলা হোক না কেনও, আমি চেষ্টা করবো ভালো খেলার। টেস্ট ম্যাচে অনেক সময় নিয়ে ব্যাটিং করা যায়। যেখানেই নামানো হোক না কেনও, সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।