টেস্ট ক্রিকেটকেই বেশি ভালোবাসেন জয়সুরিয়া

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



আশির দশকের শেষ দিকে তার ক্যারিয়ার শুরু। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলে গেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বিশ্ব-ক্রিকেটের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল ‘মাতারা হ্যারিকেন’-এর হাত ধরেই। বলছি সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সনাৎ জয়াসুরিয়ার কথা। শ্রীলঙ্কার সবথেকে গৌরবের অধ্যায় ৯৬’র বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী ছিলেন জয়াসুরিয়া। ৬ ম্যাচে ২২১ রান ও ৭ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের মুকুট উঠেছিল ২৭ বছর বয়সি জয়াসুরিয়ার হাতে। ২২ বছর লঙ্কান ক্রিকেটকে সেবা দেওয়া জয়াসুরিয়া এখন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের ‘চাকুরে’। দ্বিতীয়বারের মত জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের চেয়ারম্যান পদে আছেন মারকুটে এ ওপেনার। খুঁজে বেড়াচ্ছেন কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনদের পরবর্তী অনুসারীদের।
বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে শুক্রবার গল স্টেডিয়ামে সনাৎ জয়াসুরিয়া মুখোমুখি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের। পাঠকদের জন্য তা দেয়া হল,
প্রশ্ন : আপনি কি রাজনীতি পুরো ছেড়ে দিয়েছেন না এখনও টুকটাক সমর্থন করছেন?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : আমি এটা নিয়ে কথা বলতে রাজী নই। ক্রিকেট নিয়েই কথা বলি।
প্রশ্ন : প্রধান নির্বাচকের পদে আবারও ফিরেছেন। কেমন যাচ্ছে আপনার সময়?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : খুব ভালো সময় যাচ্ছে। আমরা শ্রীলঙ্কার নতুন দল গঠন করছি। প্রতিভাবান কিছু তরুণ ক্রিকেটার আমরা পেয়েছি। আমরা তাদেরকে খেলার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছি। তারা ভালো করছে, চেষ্টা করছে।
প্রশ্ন : পুরোনো গৌরবে ফিরে যেতে কম সময়ের প্রয়োজন হতে পারে?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট পুরোনো গৌরবে ফিরে যেতে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা শ্রীলঙ্কায় ভালো করছি। আমরা বাইরেও ভালো করছি। প্রধান নির্বাচক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমরা পরিবর্তনের পথে আছি। খেলোয়াড়দের ভালো করার জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। আমরা সেই আস্থা রাখছি তাদের উপর।
প্রশ্ন : ঠিক কত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে? কোনো ধারণা?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : সময় ধরে এটা বলা কঠিন। অভিজ্ঞতা, খেলার মান বাড়ানোর পর আমরা আমাদের পুরোনো গৌরবে ফিরে যাব। এটা অনেকটাই নির্ভর করছে তারা কতটুকু সুযোগ পাচ্ছে।
প্রশ্ন : কুমার সাঙ্গাকারা কিংবা মাহেলা জয়াবর্ধনের মত তারকা পেতে কত সময় লাগতে পারে?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : রাতারাতি তাদের মত খেলোয়াড় রিপ্লেস করা সম্ভব না। আপনি অরভিন্দ ডি সিলভাকেও রিপ্লেস করতে পারবেন না। এরা ক্রিকেটের বিশেষ কিছু। তরুণদের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তারা অভিজ্ঞ হবে। এরপর আমরা তাদের নিয়ে নতুন করে আলোচনা করব। এভাবেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
প্রশ্ন : আপনি আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ার, সফর নিয়ে কতুটুক সন্তুষ্ট?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : আমি আমার জার্নি নিয়ে খুশি। আমি ২০ বছর ক্রিকেটে যা করেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। এখন আমি প্রধান নির্বাচক হিসেবে আবারও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এর আগে ২ বছর এ পদে আমি কাজ করেছি। আমি সব সময় শ্রীলঙ্কার হয়ে ভালো কিছু করতে চাই। ২০ বছর ধরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য যেটা ভালো সেটা করেছি, এখনও তাই। এ কাজটি করে ভালো অনুভব করছি। যদি ভালো কিছু করতে পারি অবশ্যই সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে।
প্রশ্ন : আপনি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতেন। বেশিদিন টি-টোয়েন্টি খেলতে পারেননি বলে কি আক্ষেপ আছে?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : এটা ক্রিকেটের আরেকটি বিভাগ। এখন টেস্ট ও ওয়ানডের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি চলছে। এটা আরেকটি বিভাগ। প্রত্যেকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট উপভোগ করে, আমিও করি। আমার মতে এবং আমার প্রথমঅগ্রাধিকার টেস্ট ক্রিকেট। এটাই আমার কাছে বিশেষ কিছু এবং টেস্ট ক্রিকেট আমি পছন্দ করি। টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি।
প্রশ্ন : কিন্তু আপনার ব্যাটিং স্টাইল তো অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক ছিল?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : আমার স্টাইল আক্রমণাত্মক ছিল। এটা প্রতিটি বিভাগে মানিয়ে নিত। এটা টেস্ট ক্রিকেট, ওয়ানডে ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও মানিয়ে নিত।
প্রশ্ন : ১৯৯৬ সালে আপনারা বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছিলেন? ২০১১ সালে ফের এ সুযোগটি এসেছিল। কিন্তু হতে হতেও হয়নি…
সনাৎ জয়াসুরিয়া : এটা ভালো যে আমরা দুবার ফাইনাল খেলেছি, দুবার সেমিফাইনাল খেলেছি। এটা ভালো দিক নির্দেশনা দেয় যে আমরা ভালো পথে আছি। প্রাদেশিক ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আমরা ভালো করছি। নতুন নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটারও খোঁজা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দারুণ কাজ করছে। আমরা সঠিক পথে আছি। আমাদের বিশ্বকাপ জেতার প্রয়োজন নেই। আমরা ফাইনাল খেলেছি, সেমিফাইনাল খেলেছি। এর অর্থ আমরা ভালো করছি, সঠিক পথে আছি।
প্রশ্ন : এ ম্যাচের পরিস্থিতি এখন কোথায়?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : আমরা ভালো একটি শুরু পেয়েছি। আমরা ওদেরকে ৩১২ রানে আউট করেছি। এখন কিছু রান করত হবে। এতে বাংলাদেশ চাপে পড়বে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ ক্রিকেট একশতম টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের টেস্ট সফরকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : তারা ভালো করছে। তারা উন্নতি করছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের জন্য যথেষ্ট করছে। রুট লেভেলেও কিভাবে ভালো করতে হয় সেটাও তারা করছে। তরুণরাও ভালো করছে। এতে খুব ভালো ফল পাচ্ছে। এ মুহুর্তে বাংলাদেশ ভালো দল। এ দলটি দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। আপস এন্ড ডাউন্স থাকবেই তবে টেস্ট ক্রিকেটে তারা ভালো করছে। উন্নতি করছে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য আপনার পরামর্শ কি থাকবে?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : মানসিকভাবে যথেষ্ট শক্ত হতে হবে। খেলাটা এখানেই। কুশাল মেন্ডিসের মত কাউকে বড় কিছু করতে হবে তাহলে দলের সাহায্য হবে। সে বড় ইনিংস খেলতে পছন্দ করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় কঠিন সময় সে পাড় করেছে। সে সুযোগ পেয়ে এখানে ভালো করেছে। শীর্ষ পাঁচের থেকে অবশ্যই বড় কিছুর প্রত্যাশা করতে হবে।
প্রশ্ন : ঢাকা ক্লাব ক্রিকেটে আপনার ভালো কিছু স্মৃতি আছে। মনে আছে সেদিনকার কথা?
সনাৎ জয়াসুরিয়া : আমার ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাব আমাকে ভালো করে দেখভাল করেছিল।আমি খুবই খুশি। ওখানকার মাহবুব আমার দেখভাল করত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ