টেস্ট ম্যাচটি বড়ই একপেশে হয়ে গেলো

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৯, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু


এই স্বল্প পুঁজির রান নিয়ে যে লড়াই সম্ভব হবে না, তা আমাদের চেয়েও খেলোয়াড়রা আরও ভালো জানতো। দ্বিতীয় দিন শেষে একমাত্র বোলার রাহী বলতে পারে যে এই ম্যাচে অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সমর্থন পেলে ভারতকে কিছুটা চাপে ফেলা যেত। পেস বোলিংয়ে সুইং না থাকলেও সে একটা নির্দিষ্ট ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছে।
এবাদতের বাউন্সারগুলির উচ্চতা ও নিশানা ঠিক না থাকার কারণে কার্যকর হয়নি। তবে রাহীর করা বিরাট কোহলির আউটের ডেলিভারিটি ছিল দুর্দান্ত। সামান্য ভেতরে এসেছিল বলটি এবং পিচে আসা যে কোন নতুন ব্যাটসম্যানকে ঘায়েল করার জন্য একটা আদর্শ ডেলিভারি ছিল। তবে দল যখন দ্বিতীয় নতুন বল নিলো তখন দুজন বোলারই কিছুটা ক্লান্ত ছিল। তাদের সীমিত গতি দিয়েও তারা চেষ্টা করেছে তাদের সেরাটা দেওয়ার। কিন্তু পিচে তখন এক প্রান্তে ছিল দারুণ ছন্দে থাকা মায়াঙ্ক আগারওয়াল। তাই তাকে বিচলিত করার মতো ধারালো পেস বোলিং আমাদের ছিল না। ব্যাটিং নির্ভর একাদশ সাজানোর কারণে দলে মাত্র ২জন পেসার নেওয়া হয়েছে। এই দুজন বোলার নিয়ে টেস্টে আক্রমণ রচনা করা মুশকিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী এক প্রান্তে পেস আক্রমণ বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য পেস বোলারদের বিশ্রামে রাখা সম্ভব হয় না।
গতকাল পেস বোলিং ইউনিট যতটুকুই উজ্জ্বল ছিলেন। তার সঙ্গে আকাঙ্ক্ষিত সমর্থন স্পিন বোলিং ইউনিটের তাইজুল ও মেহেদী মিরাজ দিতে পারেননি। যদিও আজ পিচে স্পিন ধরছিল না। তার পরও তাদের স্পিড ও ফ্লাইট ভেরিয়েশনের ফাঁদে একাধিক ব্যাটসম্যানকে আউট করা উচিত ছিল। বিশেষ করে দিনের শেষ ২০ মিনিটে যাদব যেভাবে ব্যাট চালালেন, তা খেলোয়াড়দের মতো আমরাও টিভি পর্দায় দেখলাম। দিনের শুরুতে একটা ধাক্কা দেওয়ার পর সারাটা দিনই ছিল একপেশে লড়াই। আমরা খেলায় কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারিনি।
ভারত যে ৩৪৩ রানের লিড নিয়েছে তাকে পুঁজি করে সকালেই ভারত ইনিংস ঘোষণা করলে আমি অবাক হবো না। অন্যথায় তারা প্রথম সেশনের ৮০ মিনিট আরও ব্যাট করতে চাইতে পারে নিজেদের টেইলেন্ডারকে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য।
দল হিসেবে বাংলাদেশ মানসিক ক্লান্তিতে জর্জরিত। প্রথম ইনিংসে এর চেয়ে অনেক ভালো করার সুযোগ থাকার পরও আমরা তা পারিনি। ইতোমধ্যেই পাহাড় সমান রানের নিচে চাপা পড়েছে দল। তৃতীয় দিনে বোলিংয়ের সুযোগ থাকলে খুশি হবো। যাতে রাহী তার পঞ্চম উইকেটটি তুলে নেওয়ার একটা সুযোগ অন্তত পায়। তাকে দল বহুদিন উপেক্ষিত রেখে দীর্ঘ দিন একাদশের বাইরে রেখেছিল। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের মাটিতে ৫টি উইকেট পাওয়াটা এক বিশাল গৌরবের ব্যাপার। এই সিরিজে আমাদের দলগত সাফল্য থাকবে না তা আগে থেকেই অনুমেয়। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আলোকিত থাকুক আমাদের ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে একাধিক ব্যাটসম্যান দ্যুতি ছড়াক এই প্রত্যাশায় থাকলাম।