ট্যালকম পাউডার বিক্রি বন্ধ করছে জনসন

আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২২, ৫:১৬ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


ট্যালক থেকে তৈরি বেবি পাউডারের উৎপাদন ও বিপণন আগামী বছর থেকে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন।
এক সময় বিশ্বজুড়ে প্রচুর বিক্রি হওয়ায় ওই বেবি পাউডারে ক্যান্সারের উপাদান মেলার অভিযোগে বছর দুই আগে যুক্তরাষ্ট্রে এ পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এখন সব দেশেই বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিল মার্কিন এই হেলথকেয়ার জায়ান্ট।

বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার নারীর মামলা চলছে জনসনের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ,যে পাউডারকে তারা শিশুর জন্য ভালো মনে করতেন, অ্যাজবেস্টসের মত ক্ষতিকর উপাদান থাকায় তা ডিম্বাশ্বয়ের ক্যান্সারের কারণ হচ্ছে।
জনসন অ্যান্ড জনসন অবশ্য আগের মতই দাবি করেছে,বহু বছরের স্বাধীন গবেষণায় তাদের পণ্য ‘পুরোপুরি নিরাপদ’ বলেই বিবেচিত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে এ কোম্পানি বলেছে,তাদের যেসব কারখানায় ট্যালকম পাউডার উৎপাদন হত, আগামীতে সেখানে তৈরি হবে কর্নস্টার্চ ভিত্তিক বেবি পাউডার। এটা তাদের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে তাদের কর্নস্টার্চ ভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রিও হচ্ছে।

ট্যালকম পাউডারে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকার অভিযোগে মামলায় জর্জরিত হলেও জনসন তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

বিবৃতিতে জনসন বলছে, “আমাদের ট্যালকম পাউডার যে নিরাপদ, সে বিষয়ে আমাদের অবস্থান বদলায়নি। কয়েক দশক ধরে পৃথিবীজুড়ে মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের স্বাধীন বৈজ্ঞানিক বিশ্লষণ নিশ্চিত করেছে, বেবি পাউডার নিরাপদ, সেখানে কোনো অ্যাজবেস্টসের নেই এবং ক্যান্সারও ঘটায় না।”

জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় এক মামলার রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ২২ জন নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই নারীরা মামলায় অভিযোগ করেন, কয়েক দশক ধরে জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ও অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করায় তারা এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
অভিযোগকারী ২২ নারীর মধ্যে ছয় জন ক্যান্সারে ভুগেই মারা যান।

সেসময় রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বেশ কয়েক দফা পরীক্ষায় অ্যাজবেস্টসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও তা গোপন করে বিক্রি চালিয়ে গেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

জনসনের বেবি পাউডার প্রায় ১৩০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি হয়ে আসছে, যা পরিবার-বান্ধব পণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক এই কোম্পানির তৈরি সাবান, শ্যাম্পু, লোশন ও পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়। অনেক বাবা-মা নিরাপদ মনে করেই তাদের সন্তানদের জন্য জনসনের পণ্য কেনেন।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ওই মামলার রায়ের পর বাংলাদেশে জনসনের বেবি পাউডারে ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার ঘোষণা দিয়েছিল সরকারের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই।

জনসন অ্যান্ড জনসন ২০২০ সালে জানায়, ‘বিরূপ প্রচারের’ কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তারা আর বেবি পাউডার বিক্রি করবে না। তবে যুক্তরাজ্য ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিক্রি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

বিবিসি লিখেছে, ট্যালক পাওয়া যায় খনিতে, আর সাধারণত অ্যাজবেস্টসের কাছাকাছি ট্যালকের খনি থাকে। আর অ্যাজবেস্টসের কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

২০১৮ সালে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, জনসন ১৯৭১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাদের কাঁচা ট্যালকম এবং বিচূর্ণ পাউডার পরীক্ষা করে অ্যাজবেস্টসের উপস্থিতি পেলেও বিষয়টি চেপে রাখে। কিন্তু কোম্পানির নথিপত্রে তার প্রমাণ ছিল।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ