ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের বিরুদ্ধে অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটর

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২১, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের একটি প্রস্তাব দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে তোলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি খারিজের পক্ষে ভোট দিয়েছেন তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অধিকাংশ সিনেটর। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় ইঙ্গিত মিলছে, দলীয় আইনপ্রণেতাদের সমর্থনে অভিশংসন বিচার থেকে রেহাই মিলছে ট্রাম্পের।
এর আগে সোমবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের পক্ষপাতী। তবে সোমবার তিনি বলেছেন, তিনি নিজেও মনে করেন না যে, সিনেটে সাবেক প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হবে। কারণ, ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করতে হলে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের ভোট প্রয়োজন হবে। যেটি প্রায় অসম্ভবের মতো ব্যাপার।
মঙ্গলবার রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল সাবেক প্রেসিডেন্টের বিচারের ভিত্তি নিয়ে সিনেটে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, সংবিধানে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচারের কোনও কথা নেই। ট্রাম্প এরইমধ্যে হোয়াইট হাউজ ছাড়ায় তাকে এ ধরনের বিচারের মুখোমুখি করার সুযোগ নেই।
রিপাবলিকানদের এই প্রস্তাব অবশ্য শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দিয়েছে সিনেট। সেখানে ভোটাভুটিতে ৫৫-৪৫ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। ফলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার শুরুতে আর কোনও প্রতিবন্ধকতা থাকছে না।
মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতে ৫০ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের সবাই ট্রাম্পের বিচারের পক্ষে রায় দেন। রিপাবলিকান পার্টির পাঁচ সিনেটরও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, অভিশংসন বিচারে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে অন্তত ১৭ জনে রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থনের প্রয়োজন হবে ডেমোক্র্যাটদের।
সিনেটে ভোটাভুটির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল। তিনি বলেন, ভোটাভুটিতে পরাজয় হলেও প্রকৃত অর্থে তাদেরই বিজয় হয়েছে। গোড়াতেই অভিশংসনের বিচারের ইতি ঘটেছে। তার ইঙ্গিত, এদিনের মতো অভিশংসন বিচারের দিনও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের ভোট নিশ্চিত করতে পারবে না ডেমোক্র্যাট শিবির। ফলে শেষ পর্যন্ত নতুন প্রশাসনের পক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ইউএস ক্যাপিটলে উগ্র ট্রাম্প-সমর্থকদের হামলার পর ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে রায় আইনসভার নিম্মকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। ১৩ জানুয়ারি ২৩২-১৯৭ ভোটে পাস হয় প্রস্তাবটি। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নিম্নকক্ষে অভিশংসিত হন ট্রাম্প। চূড়ান্ত অভিশংসনের জন্য প্রস্তাবটি সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সিনেটে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের ভোটের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরও ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিতে হবে। তবে মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতে এটা পরিষ্কার যে, নিজ দলের এতো বেশি সংখ্যক সদস্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ