ট্রাম্পের কুরুচিকর মন্তব্য বর্ণবাদেরই প্রতিফলন

আপডেট: জুন ৮, ২০২০, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

‘আমেরিকার জন্য সেরা সময় এটা। জর্জ ফ্লয়েডের জন্যেও এটা মহান দিন। সাম্যের দিক থেকেও।’ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ১১ দিনের মাথায় এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিক্ষোভ প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ার ১১ দিন পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এভাবেই মুখ খুললেন। সাথে শুরু হল বিতর্ক। হোয়াইট হাউজে বসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বললেন, ‘আমেরিকার সেরা সময় এটা। বেকারত্বের কোনও সমস্যা নেই। চাকরির প্রচুর সুযোগ রয়েছে চারদিকে। তাঁর মতে, এখন আমেরিকার অর্থনীতি ‘রকেট মোড’-এ এগোচ্ছে। সম্মেলনের বাকি সময়টায় তিনি বললেন, ‘’একদিনে যা যা হয়েছে, তা যেন আর না হয় সেটাই আমাদের দেখতে হবে। জর্জ ফ্লয়েড নিশ্চয়ই এখন ওপর থেকে সব দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর জন্য ভাল দিন এটা। যা ঘটছে, তা আমাদের দেশের জন্য মহান। সাম্যের দিক দিয়েই হোক বা অর্থনীতির দিক দিয়ে।’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে ট্রাম্পের অবিবেচনাপ্রসূত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে তিব্র আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখানেই থেমে নেইÑ একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্য করেই যাচ্ছেন। ‘গুলি করা’, ‘সেনা নামানো’-র হুঁশিয়ারির পর এবার নতুন হল ‘জঙ্গি’। বিক্ষোভকারীদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিলেন তিনি। আর তাতেই ঘৃতাহুতি হল বিক্ষোভে। এই বিক্ষোভ এখন দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনযাযী আমেরিকাতে বিক্ষোভ- প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনা দেশটির বর্ণবাদের ঘৃণ্য চরিত্রই ফুটে উঠেছে। এবং এই চরিত্র যে দেশটির প্রেসিডেন্ট স্বয়ং ধারণ করেন- তার বেসামাল কথাবার্তাতেই প্রমাণ মিলে। তিনি প্রতিবাদকারীদের হুমকি-ধামকি দিয়েই ক্ষান্ত হননিÑ তাদের জঙ্গি হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। বর্ণবাদের শিকার জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও উপহাস পর্যন্ত করেছেন। ট্রাম্পের প্রতিটি কথায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। অথচ তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই মুহূর্তে একেবারে নিরব। একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও তারা রা-টি পর্যন্ত করছে না। এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তেলে মাথায় তেল ঢালতে সবাই পছন্দ করে। উন্নয়নকামী দেশগুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেশ সোচ্চার হয়ে উঠতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পৃথিবীর জুুড়েই নেতৃত্বের সঙ্কট চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভবত এমন বেসামাল নেতৃত্ব সে দেশের জনগণ কখনো দেখেনি। ক্ষমতাধর দেশের নেতৃত্বে এই যদি অবস্থা হয় তা হলে সত্যিকার অর্থেই পৃথিবীর জন্য সমূহ বিপদের আশংকা করা যায়। করোনাভাইরাস নিয়েও ট্রাম্পের তামাশার কথা বিশ্বের সকলেরই জানা। করোনাভাইরাসকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে দিয়ে তার প্রায়শ্চিত্ত সবচেয়ে বেশি আমেরিকাকেই করতে হচ্ছে। এখন জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়েও তিনি সে দেশের জনগণের সাথে তামাশাই করছেন। একই সাথে তিনি আমেরিকাতো বটেই বিশ্বের গণতন্ত্রমনা মানুষকেও ক্ষুব্ধ করে তুলেছেন। গণতন্ত্র ভাল কিন্তু গণতন্ত্রের ফাঁক-ফোকর দিয়ে রাজনীতিতে বোধহীন নেতৃত্ব খুবই ভয়ঙ্করÑ এ শিক্ষাটাও বিশ্ব রাজনীতিকদের বিবেচনায় নেয়া আবশ্যক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ