ট্রাম্পের প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান || বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে দিন

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক



স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ট্রাম্প। আপনার কাছে আমি অনুরোধ করছি, আপনার দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পালিয়ে আছেন। তাদেরকে ফেরত দেন। ঘাতকদের অতি দ্রুত আপনি ফেরত পাঠান।’ জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে মিটিং মিছিলের নামে নৈরাজ্য, জ্বালাও পোড়াও করবেন না তার গ্যারান্টি কী? সেজন্যই তাদেরকে সমাবেশ করার অনুমুতি দেয়া হয়নি। যদি পারেন আপনারা জনগণকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নামেন। তাহলে পুলিশও পালাবে। আপনারা তো ভীরু, কাপুরুষ। আপনারা প্রস্তুতি নেন। ২০১৯ সালের আগে নির্বাচন হবে না। খেলে জেতেন সেটা আমরা চাই। কিন্তু ফাউল করবেন না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, ‘জাতীয় চার নেতাকে হারিয়ে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বাঙালি জাতি সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জিয়া-খালেদা-মুশতাক বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করেছিলো। আমরা ভাবতেও পারিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যার বিচার পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না আসলে আমাদের রক্তক্ষরণ বন্ধ হতো না। বাঙালি জাতির রক্তক্ষরণ বন্ধ হতো না।’
সভায় মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় চার নেতার সম্পর্কে বলেন, ‘জাতীয় চারনেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এক পরিবারের মতো ছিলেন। তারা একে অপরের বন্ধুর মতো ছিলো। তাদের মধ্যে কখনও সামান্যতম বিরোধ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন এই চার নেতা। তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার সময় বঙ্গবন্ধুৃর ছায়ার মতো ছিলেন। তাদের মধ্যে যে বোঝাপড়া ছিল তা কল্পনা করা যায় না।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘যারা এ দেশে শাসনের নামে শোষণ চালিয়েছে তারা ১৯৭১ সালের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালিরা যেদিন স্বাধীন হয়েছিল সেদিন থেকেই চক্রান্ত শুরু হয়। ১৯৭৫ সালের সেই চক্রান্তেরই পরিণতি দেন বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে।’
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য লিটন আরো বলেন, ‘নেতার প্রতি কেমন আদর্শ ও শ্রদ্ধাবোধ থাকলে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তা বরণ করে নেয়া যায় তা চার নেতা দেখিয়েছিলেন। তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হাইব্রিডদের অত্যাচার থেকে মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, রাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ