ট্রাম্প-পুতিনের সোয়া দুই ঘণ্টার বৈঠক

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জার্মানির হামবুর্গে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের ফাঁকে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
গত ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সাক্ষাৎ হল।
নির্বাচনী প্রচারে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে আসা ট্রাম্প তার সঙ্গে বৈঠককে নিজের জন্য ‘সম্মানের’ বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করতে পেরে আমি আনন্দিত।”
শুক্রবার সকালে সম্মেলনের প্রথম দিনেই দুই নেতা করমর্দনের মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎ করে স্বল্প সময়ের জন্য কথা বলেন। এরপর তাদের মধ্যে আরও দীর্ঘ আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, দুই নেতার মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের বৈঠক হয়েছে, যা হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৩০ বা ৪০ মিনিট।
প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আগেই ছোট্ট এক মন্তব্যে পুতিন জানিয়ে দেন ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি কতটা আনন্দিত। দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে একাধিক বৈঠক হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে জানিয়ে পুতিন বলেন, “ফোনালাপ করাটা যথেষ্ট নয়। তার চেয়ে মুখোমুখি বৈঠক করা ভালো।”
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগসহ ইউক্রেইন, সিরিয়া সংকট নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তা সারতে চান বলে জানান দুই নেতা।
ম্যারাথন বৈঠকে পুতিন ও ট্রাম্প অনেক বিষয়ে কথা বলেন। ইউক্রেইন, সিরিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা এবং কিছু দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে তাদের কথা হয়। আলোচনায় উঠে আসে সাইবার নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গও।
পুতিনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “পুতিন ও আমি অনেক বিষয় নিয়েই আলোচনা করছি এবং আলোচনা ভালোভাবেই চলছে বলে আমি মনে করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা খুবই ভালো আলোচনা করেছি। এখনও আমরা আলোচনা করব এবং সেটি চলতে থাকবে। আমরা রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং সবার জন্যই খুবই ইতিবাচক কিছু ঘটার অপেক্ষায় আছি।”
ওদিকে, পুতিনও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক থেকে ইতিবাচক ফলের প্রত্যাশা জানান।
তবে জি-২০ সম্মেলন শুরুর আগে থেকেই ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে পরষ্পরবিরুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার জার্মানি সফরের প্রাক্কালে পোল্যান্ড সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেইনকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ করেছিলেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
তিনি রাশিয়াকে দায়িত্বশীল দেশগুলোর কাতারে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবেই ট্রাম্পের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে।
ওদিকে, জার্মানির ‘হান্ডেসব্লাট’ পত্রিকায় জি-২০ সম্মেলনে নিজ আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করে পুতিন রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন-নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির পক্ষেও পুতিন যুক্তি দেখিয়েছেন এবং এর বাস্তবায়নে পুরোপুরি অবদান রাখতে চেয়েছেন। ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে সরে এসেছে।
অন্যদিকে, সিরিয়া নিয়েও দু’পক্ষে ভিন্নতা দেখা গেছে। সিরিয়া যুদ্ধে ওয়াশিংটন কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন করে। অপরদিকে মস্কো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রধান মিত্র।
তাছাড়া ওয়ারশ’র ভাষণে ট্রাম্প যে ভাষায় রাশিয়ার সমালোচনা করেছেন তাতে বোঝা যায়, পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার রাজনৈতিক বিপত্তিটা তিনি বুঝতে পেরেছেন।
তবে ট্রাম্প অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে পুতিনের সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছেন। তাছাড়া ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ আছে মার্কিন গোয়েন্দাদের এই বিবৃতিও নিশ্চিত করে বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপে রাশিয়া জড়িত বলে তিনি মনে করলেও অন্য মানুষ এবং দেশও এর পেছনে জড়িত থাকতে পারে। কেউই এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারবে না।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ