ট্রাম্প প্রথম নন, হোয়াইট হাউসের বহু বাসিন্দার গায়েই কেচ্ছা কেলেঙ্কারির কালো দাগ

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
এখনও তিনি সরকারিভাবে হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা হননি। তার বহু আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিতর্ক। কখনও তাঁর নীতি নিয়ে তো কখনও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে। কখনও বা তাঁর বিলাসপূর্ণ জীবন নিয়ে। কখনও তাঁর মেয়ে ইভাঙ্কাকে নিয়ে তো, কখনও তাঁর তৃতীয় স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে। আর তাঁর কেচ্ছা নিয়ে রসিক মন্তব্য তো রয়েছেই। কিন্তু তিনি, আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিন্তু অবিচল। বিতর্ককে তাঁর থোড়াই কেয়ার। হোয়াইট হাউজে আর বিতর্ক কিন্তু একেবারেই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। সেই জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে আব্রাহাম লিঙ্কন, জন এফ কেনেডিÍ কোন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বিতর্ক হয়নি তা হাতে গুণে বলা যায়। এক বার হোয়াইট হাউজের অন্দরে উঁকি মেরে দেখে নেয়া যাক প্রেসিডেন্টদের ঘিরে থাকা তেমনই কিছু বিতর্ক।
জর্জ ওয়াশিংটন: আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ছিলেন কার্যত অশিক্ষিত। শিক্ষা সংক্রান্ত তাঁর বিভিন্ন নীতি নিয়ে সমালোচনা হত প্রায়শই। কিন্তু এ সব কিছু ছাপিয়ে যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক। যুবক জর্জ প্রেমে পড়েছিলেন বন্ধু পতœী স্যালি ফেয়ারফ্যাক্সের। বেশ কয়েক বছর প্রেম চলার পর হঠাৎই মার্থা ড্যান্ডরিজের প্রতি আসক্ত হন জর্জ। প্রবল ধনী মার্থা ছিলেন বিধবা।
স্যালিকে ‘প্রতারিত’ করে মার্থাকে বিয়ে করাকে অনেকেই ভাল চোখে দেখেননি। সেই সময় প্রবল সমালোচনাও হয়েছিল এই সম্পর্ক নিয়ে। এর পাশাপাশি ১৭৯৫ সালে গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্যও প্রবল সমালোচিত হন।
জন অ্যাডামস: আমেরিকার দ্বিতীয় প্রেসিডেন্টের সময় ফ্রান্সের সঙ্গে হয়েছিল কুখ্যাত কোয়াসি যুদ্ধ। বহু দিন ধরে চলা সেই যুদ্ধে যথেষ্ট প্রভাব পড়েছিল মার্কিন অর্থনীতিতে। স্বভাবতই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন অ্যাডামস।
টমাস জেফারসন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনকে ইতিহাস মনে রেখেছে দাসপ্রথা বিরোধী হিসেবে। দাসপ্রথা নিয়ে বিভিন্ন নীতির প্রবর্তন করা জেফারসনের কিন্তু একাধিক ব্যাক্তিগত দাস ছিল। বা বলা ভাল দাসী ছিল। এঁদেরকে রক্ষিতা করে রাখার মারাত্মক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তেমনই এক জনের গর্ভে একাধিক সন্তানের জন্ম দিয়ে তাদেরও দাস বানিয়ে রাখার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। জেফারসন অবশ্য এর কোনও অভিযোগই মানেনই।
অ্যান্ড্রু জ্যাকসন: সপ্তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়েও ছিল বিতর্ক। জ্যাকসনের স্ত্রী র‌্যাচেল ছিলেন ডিভোর্সি। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ডিভোর্সের আগেই তাঁকে বিয়ে করেন জ্যাকসন। বিরোধীদের সেই অভিযোগ পরে মেনেও নেন জ্যাকসন। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরেই মারা যান র‌্যাচেল।
মার্টিন ভ্যান বুরেন: ১৮৩৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেন বুরেন। বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল তাঁর রাজকীয় টয়লেট। সেই সময়েই ব্যাক্তিগত টয়লেটে গরম জলের ট্যাঙ্ক বানিয়ে প্রবল সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি।
আব্রাহাম লিঙ্কন: হোয়াইট হাউজের অন্যতম বর্ণময় চরিত্র লিঙ্কনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সমকামিতার। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, নিজের দেহরক্ষী-সহ একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে নিয়ে লেখা তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ কবিতা সেই অভিযোগকে স্বীকৃতিও দিয়েছিল বলে অনেকের মত। দুর্নীতিরও অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তদানীন্তন সেক্রেটারি অব ওয়ার সাইমন ক্যামেরনকে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ক্যামেরনের সঙ্গে তাঁকেও অভিযুক্ত করেছিল বিরোধীরা।
গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড: আমেরিকার ২২তম এবং ২৪তম প্রেসিডেন্ট ক্লিভল্যান্ডই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নির্বাচনে হেরে ফের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। প্রথম বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি ছিলেন নিউ ইয়র্কের গভর্নর। সেই সময়ে মারিয়া হালপিন নামে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তাঁদের এক সন্তানও হয়। আমেরিকায় অবশ্য এই বিষয়টি তেমন কিছু নয়। বিষয়টি অন্য মাত্রা পায় ক্লিভল্যান্ড যখন হালপিনকে পাগলা গারদে ভর্তি করেন। ক্লিভল্যান্ড কিন্তু সব অভিযোগ মেনে নেন এবং নির্বাচনে জিতেও যান।
ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট: আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেছিলেন রুজভেল্টই। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল একাধিক পরকীয়ার। পরকীয়া ছাড়াও অন্য একটি অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে অ্যালুইটিয়ান দ্বীপে ফেলে আসেন তাঁর পোষা কুকুর ফালা-কে। বিষয়টি চোখে পড়তে তৎক্ষণাৎ একটি মার্কিন রণতরী পাঠিয়ে দেন ফালাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে। এই সিদ্ধান্তে প্রবল সমালোচিত হন রুজভেল্ট।
জন এফ কেনেডি: প্রেসিডেন্ট থাকাকালীনই হত্যা করা হয়েছিল আমেরিকার ৩৫তম প্রেসিডেন্টকে। তাঁর সঙ্গে হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর সম্পর্ক নিয়ে কেচ্ছার অন্ত ছিল না। তাঁর পরকীয়ার তালিকাটি ছিল বেশ দীর্ঘ। মনরো ছাড়াও বিভিন্ন মডেল, হোয়াইট হাউজের সেক্রেটারিরাও ছিলেন সেই তালিকায়।
রিচার্ড নিক্সন: আজকাল যে কোনও বিষয়ের সঙ্গে ‘গেট’ কথাটা জড়িয়ে দেওয়াটা রীতির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। সেই ‘গেট’ দুর্নীতি শুরু হয় তাঁর আমলেই। নিক্সনের সময়ের ‘ওয়াটারগেট’ দুর্নীতি নাড়িয়ে দিয়েছিল সমগ্র বিশ্বকে।
রোনাল্ড রেগন: মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের মাথায় ছিলেন রেগন। তাঁর জমানায় মোট ১৩৮ জন অফিসারকে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল ইরানের সঙ্গে সমরাস্ত্র বিক্রয় চুক্তি।
বিল ক্লিন্টন: হোয়াইট হাউজের ইন্টার্ন মনিকা লিউইনস্কির সঙ্গে তাঁর অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্বে। ক্লিন্টন অবশ্য প্রথম দিকে সব অভিযোগই অস্বীকার করেন। পরে লিউইনস্কির সঙ্গে সম্পর্ক স্বীকার করে নেন। এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা