ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ সমাধানের উপায় কী?

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২১, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

ভ্রমণে ট্রেনের জুড়ি মেলা ভার। ট্রেন ভ্রমণ মানুষের প্রথম পছন্দ। কিন্তু ট্রেনে ভ্রমণ এখন আতঙ্কেরও কারণ। যাত্রীবাহী ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। আগে দু’একটি রুটে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটলেও হালে এই সংখ্যা বেড়েছে এবং ক্রমেই তা বাড়ছে। প্রায়ই ভাঙছে জানালার কাচ, আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। সম্প্রতি এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। পুরস্কার ঘোষণা করেও ধরা যাচ্ছে না দুর্বৃত্তদের। দাবি উঠেছে জানালায় প্রতিরক্ষা নেট লাগানোর।
২২ নভেম্বর সিরাজগঞ্জে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রাজশাহীর এক গৃহবধু মারাত্মক আহত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সিরাজগঞ্জ রেল স্টেশন পার হওয়ার পরই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। নিক্ষেপিত পাথর ওই গৃহবধুর নাকের উপর আঘাত করে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন।
রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ-সহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা। পাথর নিক্ষেপে কারো মৃত্যু হলে অপরাধীর মৃত্যুদন্ডেরও বিধান রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না পাথর নিক্ষেপ। এর প্রধান কারণ পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এ আইনে কারো শাস্তি হওয়ার নজির নেই। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ট্রেন চালুর পর থেকেই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। উন্নত দেশেও এ অপকর্মটি হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে সমস্যাটি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রেনের গার্ড, কর্মচারী ও যাত্রী আহত হচ্ছেন। অনেকে চোখ হারিয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও এ পর্যন্ত দোষি কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় নি। কর্তৃপক্ষের মতে, এ পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাদের ধরা হয়েছে তাদের সবাই শিশু, ভবঘুরে অথবা অপ্রকৃতিস্থ। ফলে কাউকে সাজা দেয়া যায়নি। কিন্তু বিকল্প কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেটাও দৃশ্যমান নয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব মতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ১১০টি ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৯ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ১০৩টি ট্রেনের জানালা ভেঙেছে। এর মধ্যে দেশের ১৫টি এলাকায় পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটছে বেশি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনকে যাত্রীবান্ধব করতে রেলওয়ের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। এখন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগসহ জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে রেলওয়ে। এরই মধ্যে তারা বেশ কিছু জায়গা চিহ্নিত করেছেন, যেখান থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এসব এলাকায় নিয়মিত রেল পুলিশের টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে কমিটি। কেউ পাথর নিক্ষেপকারীকে ধরে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।
এসব কিছুই হতাশার কথা, প্রবোধ দেয়ার মত। প্রতিরক্ষা নেট লাগানোর প্রতিশ্রুতিও রক্ষা হচ্ছে না। দেশের মানুষ চায় সমস্যার সমাধান। সেই সমাধান কোন পথে সেটা বাংলাদেশ রেলওয়েকেই ভাবতে হবে। নজির স্থাপন করতে হবে। সমাধান তাদেরই করতে হবে।
রেল ভ্রমণ বিমা সুবিধার আওতায় আনাটা বাঞ্ছনীয়। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন তাদের বিমামূল্য পাওয়ার অধিকার আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ