ডা. মো. মঈন উদ্দিনকে স্যালুট জানাই জীবনোৎসর্গকারীদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয়া হোক

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২০, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে করোনার কাছে হার মানলেন ‘গরিবের চিকিৎসক’ খ্যাত ডা. মো. মঈন উদ্দিন। ৯ দিন করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে ১৫ মারা যান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপক। করোনাভাইরাসের প্রথম শিকার হলেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ডা. মো. মঈন উদ্দিনের এই মৃত্যু সারা দেশের মানুষকে ছুঁয়ে গেছে, হৃদয়কে ব্যথিত করেছে। তাঁর মৃত্যুর শোক দেশের প্রতিটি মানুষ স্বজনের মতই হৃদয়ে ধারণ করেছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লড়াইয়ের এই যোদ্ধাকে স্যালুট জানাই।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ডা. মো. মঈন উদ্দিন শুধুই একজন চিকিৎসক ছিলেন নাÑ একজন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষও ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের বন্যা বয়েছে, আবার তাঁকে নিয়ে জাতির বীরযোদ্ধা হিসেবে গর্বও করেছেন কনেকেই। তিনি গরিবের সুহৃদ ছিলেন। ১০০-১৫০ টাকা ফিতে চিকিৎসা করতেন। তার কাছে সেবালাভীরাও শোকাতুর। ডা. মো. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ডা. মঈনকে একজন মহৎপ্রাণ চিকিৎসক আখ্যায়িত করে বলেছেন, দেশ ও জাতি তার এই ত্যাগ মনে রাখবে। আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক শোকবার্তায় ডা. মো. মঈন উদ্দিন সম্পর্কে বলেছেন, ‘যুগ যুগ ধরে আর্ত-মানবতার সেবায় নিয়োজিতদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন তিনি।
করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা- যা মানব সভ্যতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধ যুদ্ধে সামনের কাতারে থেকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা জীবনবাজি রেখে সেবা দিয়ে চলেছেন। এই পেশাজীবীদের পরেই রয়েছেন, প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর সদস্য, সেনাবাহিনী, গণমাধ্যমকর্মিসহ অন্যরা। জাতির এই ক্রান্তিকালে সত্যিকার অর্থেই তারা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে সামিল হয়েছেন। সম্মুখে থেকে যারা যুদ্ধ করছেন তারা জানেন, মানেন যে, করোনা ভাইরাস তাদেরকেও ছুঁতে পারে, তাদের জীবন নাশ হতে পারেÑ তারপরও তাঁরা মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই মহৎ মৃত্যুকেই গ্রহণ করলেন ডা. মো. মঈন উদ্দিন। তিনি শোককে শক্তি দিয়েছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাহস যুগিয়েছেনÑ তাঁকে আবারো স্যালুট জানাই।
করোণাভাইরাস প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্তদের বিভিন্ন আর্থিক ও বিমা সুবিধা দিয়েছে সরকার। এটা তাদের প্রাপ্য। কিন্তু করোনা প্রতিরোধযুদ্ধে ডা. মো. মঈন উদ্দিনের মত যারা নিজের অমূল্য প্রাণ উৎসর্গ করবেনÑ তাঁদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয়। তাঁদেরকে জাতীয় বীরের মর্যাদা প্রদান করা হোক। বর্তমান প্রজন্ম তো বটেই ভবিষ্যত প্রজন্ম মহান আত্মত্যাগের এই দৃষ্টান্ত গৌরবের সাথে যুগ-পরম্পরায় বহন করে যাবে। তারা জানবে জাতীয় এই বীরদের করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধে দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁদের প্রিয় জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ