ডিগ্রি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ১২ শিক্ষার্থী আটক ।। দুর্গাপুরে দুই শিক্ষার্থীর কারাদণ্ড

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও দুর্গাপুর প্রতিনিধি


রাজশাহীর মোহনপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাশ) পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কলেজের ১২ শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলার মোহনপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে এসব ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
তারা ইংরেজি বিষয়ে কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সেজে পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন উপস্থিতির স্বাক্ষর নেয়ার সময় তাদের পিতার নাম ও স্বাক্ষরের সঙ্গে অমিল পাওয়া যায়। এর ফলে তাদের সন্দেহ হলে চ্যালেঞ্জ করা হয়। তবে এসব ভুয়া পরীক্ষার্থীরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, সাব্বির হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মিঠু রহমান, আমিনুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, মোতালেব হোসেন, জানাতুল ফেরদৌস, আল আমিন, রুবেল আলী, এমরান আলী ও কাওসার হোসেন।
এরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও মোহনপুর ডিগ্রি কলেজের আনারুল হক হেনা জানান, তারা অন্যের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিচ্ছিলো। তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনো মামলা দায়ের করে নি। মামলার পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে দুর্গাপুরে দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, রাজশাহীর দুর্গাপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ডিগ্রী (পাশ) পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে সরকারি কলেজের ২ শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজলের দাউকান্দি ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্র্যামমাণ আদালত বসিয়ে নিবার্হী ম্যাজিস্ট্র্রেট ওই দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আটকৃতরা হলেন, দুর্গাপুর উপজেলার দূর্গাদহ গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ (২৫), ও নাটোর বাগাতিপাড়া উপজেলার তালতলা গ্রামের খোদাবক্সের মেয়ে স্বপ্না পারভীন (২১)।
দুর্গাপুর থানার পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে দুর্গাপুরের দাওকান্দি ডিগ্রী কলেজে কেন্দ্রে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ইংরেজি পরীক্ষা চলছিলো। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন ওই কেন্দ্রের ৩০২নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীর পরির্বতে অন্য দুইজন পরীক্ষা দিচ্ছেন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপজেলা সহকারি পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহাবুর রহমানকে জানান। পরে তিনি ৩০২ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে দুর্গাপুর কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব মাহমুদ যার রোল নম্বর ৫১২৭২৫৯, প্রক্সি হিসেবে ভুয়া পরীক্ষার্থী ফিরোজ মাহমুদ ও দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী গোলাপী খাতুনের রোল নম্বর ৫২৯৯১০৫, প্রক্সি হিসেবে স্বপ্না পারভীনকে আটক করেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অন্যের পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে ফিরোজ মাহমুদকে ১বছরের সশ্রম ও স্বপ্না পারভীনকে ১বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আজ বুধবার সকালে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ