বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলার রায় প্রত্যাশা, সব পক্ষই সতর্ক হবে

আপডেট: November 30, 2019, 1:03 am

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষিত হলো। আবার মামলার রায়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাজা হলো। ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক । দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ এই মামলার রায়ের সংবাদ দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। এই রায় ঘোষণার পর এটি সারা দেশে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে। এই রায়ে ভিকটিম পরিবারই শুধু নয় দেশের মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার ঔদ্ধত্য, দায়িত্বহীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা, বিকৃত রুচি পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। আবার এই রায়ের ওই পুলিশ কমকর্তার দণ্ড ঘোষিত হলে পুলিশেরই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি দেশের মানুষ লক্ষ্য করলো।
ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত গত মার্চ মাসে তার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। সেসময় সোনাগাজী থানায় তার জবানবন্দি নেন তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।
তার কয়েক দিন পর মাদ্রাসার ছাদে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে আগুন দিলে সারাদেশে আলোচনা শুরু হয়। তখন নুসরাতের ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
পরিদর্শক মোয়াজ্জেমই ওই ভিডিও ছড়িয়েছেন- পিবিআই-এর এমন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চার মাস আগে এ মামলার বিচার শুরু হয়। মামলার শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও নুসরাতের জবানবন্দি ভিডিও করার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছিলেন সোনাগাজীর সাবেক ওসি।
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদে থেকে অনুমতি ছাড়া কারও বক্তব্য রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দিয়ে গুরুতর অপরাধ করা হয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন।
পুলিশের কতিপয় সদস্য আছেন যারা পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এবং নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সাধারণ মানুষ ওই সব পুলিশ সদস্যের কাছে খুবই অসহায়। নিহত নূসরাতের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। একজন পুলিশ কর্মকর্তা এও ভাবিনি যে, নূসরাতের মত তার মেয়ে বা বোনও আছে। তার স্ত্রী ও মাও আছেন। তিনি সম্ভাবনাময় ছাত্রীর সাথে যে নোংরা ও ন্যক্কারজনক আচরণ করেছেন তাতে তার সমুচিত শাস্তিই হয়েছে।
যদিও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ওই কর্মকর্তার মনুষ্যহুস ফিরে এসেছিল। কাঁদতে কাঁদতে গত ১৪ নভেম্বর বিচারককে বলেছিলেন, ‘এই অভিযোগে যত বড় শাস্তিই দেন না কেন, তার চেয়ে বড় শাস্তি আমি পেয়ে গেছি।’ সীমাহীন ঔদ্ধত্য মানুষকে কত ভয়ঙ্কর করে তোলে ওই কর্মকর্তা নূসরাতের বিরুদ্ধে তারই প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। ক্ষমতার দাপটে মনুষ্যজ্ঞান যারা হারিয়ে ফেলে তাদেরকে এই ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। এই রায় থেকে শিক্ষা নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য আরও সতর্ক হবে এবং দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন সেই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ