‘ডিজিটাল বাংলাদেশ –এ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট: জুন ৮, ২০২১, ৯:২৭ অপরাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:


বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহীর আয়োজনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ –এ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (০৮ জুন) সকালে ভৌত ও অনলাইন অবকাঠামোর সংমিশ্রণে আয়োজিত এই সেমিনার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর সদস্য সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল করিম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, উন্নয়ন ও আইসিটি এ. এন. এম. মঈনুল ইসলাম ও রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক।
ডিজিটাল বাংলাদেশ এ ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের গুরুত্ব এ বিষয়টি সম্পর্কে তথ্যবহুল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসিসি’র পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ এনামুল কবির। তিনি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সমূহ কেমন হবে সেই বিষয়ে চমৎকার একটি প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের একটি পর্যায়ে গিয়ে মানুষ এবং প্রযুক্তির মধ্যকার ব্যবধান প্রায় ঘুঁচে গিয়ে একটি সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেম গড়ে উঠবে সে ব্যাপারে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে রুয়েটের সিএসসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বশির আহমেদ বলেন, আমাদের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি গুলো কী কী সমস্যা মোকাবেলা করছে সেগুলো জানতে হবে এবং এর সাথে মিল রেখে আমাদের একাডেমী গুলো গবেষণা করে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি মাধ্যমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে বসাতে সমর্থ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য এবং সকলের কাছে বিসিসি’র কার্যক্রম এবং সেমিনারটি আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বিসিসি রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক সনৎ কুমার দাস। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা এবং নৈতিকতার প্রয়োগ ঘটিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মানব জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে সমর্থ হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে চালকের আসনে যে সকল ব্যক্তিবর্গ যুক্ত থাকবেন তাদের জন্য ডাক্তারদের হিপোক্রেটাস শপথের ন্যায় অনুরূপ শপথ গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা চালুকরা প্রয়োজন বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।
অুনষ্ঠানে সংযুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুস সালাম, জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কাজল রেখা এবং নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস।
পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মতামত দিতে গিয়ে বলেন এই কোভিড সময়ে আমরা তরুণ সমাজকে কিভাবে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করতে পারি সে বিষয়টি নিয়ে বিসিসি যেন উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিসিসি’র এই চমৎকার ও যুগোপযোগী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তিনি তার কর্মজীবনের প্রারম্ভে বিসিসিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের স্মৃতিচারণা করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিসিসি যে দৃঢ়তার পরিচয় রেখেছে এবং অদক্ষ জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর দক্ষ কর্মী হিসেবে তৈরি করতে যে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে তার প্রশংসা করেন এবং এ কাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজশাহী জেলা প্রশাসন মাঠপর্যায়ে বিসিসিকে সবরকম সহায়তা প্রদানে বদ্ধপরিকর বলে জানান।
সুন্দর আগামীর জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বিসিসি’র কর্মকান্ডের প্রশংসা করে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বরাবরের মতো ভবিষ্যতেও বিসিসি আঞ্চলিক কার্যালয় রাজশাহীর কর্মকান্ড প্রসারিত করতে বিভাগীয় প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধান অতিথি রেজাউল করিম সেমিনারে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ এসেছে সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সন্তুষ্টচিত্তে সকলকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবশেষে আঞ্চলিক পরিচালক সনৎ কুমার দাস সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ এবং উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ একটি সমাজ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করে সেমিনার সমাপ্ত করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ